কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জুমেলা খাতুন নামের এক বিধবা নারীকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর একজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন ও দুজনকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে অন্য আরেক আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকালে কিশোরগঞ্জের প্রথম আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন।
রায়ে মামলার আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, আরেক আসামি সিরাজুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আরো দুই আসামি মিজানুর রহমান ও নজরুল ইসলামকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি মজিবুর রহমান মজনুকে বেকসুর খালাস প্রাদন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ দিবাগত রাতে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিরা গভীর রাতে জুমেলা খাতুনের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু বরণ করেন। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে প্রথমে কুলিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২১ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর দীর্ঘ সময় মামলার সমস্ত আইনী কার্যক্রম শেষ করে ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরগঞ্জের প্রথম আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন। মামলাটি পরিচালনা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এপিপি সৈয়দ শাহজাহান ও আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস।
বার্তা বাজার / ডি.এস