প্রতিশোধ নিতেই আপন ভাগ্নে-ভাগ্নিকে গলা কেটে হত্যা করে মামা

গত সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় নিজ বাড়ির খাটের নিজ থেকে দুই ভাই-বোনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ‘সন্দেহভাজন অভিযুক্ত’ বাদল মিয়াকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। আটক বাদল মিয়া কুমিল্লা হোমনা উপজেলার হোদাদাউপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত কামরুল ও শিফার মামা হন তিনি।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামা বাদল মিয়া পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে বাদল মিয়াকে ঢাকার সবুজবাগ থানা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে বুধবার জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বাদল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশকে নিহতদের মামা বাদল মিয়া গ্রেফতারের পর জানায়, সে বাহরাইন প্রবাসী ছিলেন। বাদল মিয়া গত মার্চ মাসে দেশে আসার পর আর বিদেশ যেতে পারেনি করোনা মহামারীর কারণে। গোষ্ঠীগত দাঙ্গায় মামলার আসামী হওয়ায় কুমিল্লা থেকে বাঞ্ছারামপুরে ভগ্নিপতি কামাল উদ্দিনের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। সে বাহরাইন থাকাকালে কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয় দোকান করার জন্য। এরমধ্যে পরিশোধ করে ৩ লাখ টাকা। বাকি ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ায় কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল বাদল মিয়ার। এজন্য সপ্তাহখানেক আগে ভগ্নিপতি কামাল উদ্দিন বাদল মিয়াকে থাপ্পড় মারেন। সেই রাগে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে বাদল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের খাবারের পর কামরুল ইসলাম (১০) মায়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে মামা বাদল মিয়ার রুমে যায়। তখন ভগ্নিপতির থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে বাদল মিয়া তার ভাগ্নে কামরুলের হাত-পা বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে খাটের নিচে লাশ রেখে দেয়। ভাগ্নি শিফা ঝাড়ু দিতে গিয়ে ছোট ভাই কামরুলকে মামা বাদল মিয়া হত্যা করতে দেখে ফেলে। আর তখন বাদল মিয়া ভাগ্নি শিফাকে হত্যা করতে জোড়াজুড়ি করে বাথরুমে নিয়ে গলা কেটে তাকেও হত্যা করে। পরে শিফার লাশ অন্য রুমের খাটের নিচে রেখে দেয়। পরিবারের সদস্যার শিফা ও কামরুল না পেয়ে বাদল মিয়াকে নিয়ে খোঁজতে যায়। এক পর্যায়ে বাদল মিয়া সবাইকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় নিহতদের পিতা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদকে।

বার্তা বাজার কে.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর