নারায়ণগঞ্জে সেই কিশোরীকে ‘ধর্ষণ-হত্যার’ দায় স্বীকার করে তিন যুবক জবানবন্দি দেওয়ার ৫১ দিন পর মেয়েটি ফিরে আসে। নিহত কিশোলী ফিরে আসার ঘটনার আলোচিত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশ বুধবার বিকালে এসআই শামীমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ওই তিন যুবকের একজন খলিল মাঝি, তার স্ত্রী শারমিন বেগম সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার বিকালে এসআই শামীম থানার কাছে ডেকে নিয়ে তার হাতে ছয় হাজার টাকা দিয়েছেন।
তিন যুবক রকিব, খলিল ও আব্দুল্লাহ আদালতে জবানবন্দি দেন। সেই বিষয়ে কথা বলতে এসআই শামীমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
গত ৪ জুলাই ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তাকে না পেয়ে তার পরিবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি ও মামলা করে। ওই মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৯ অগাস্ট এই তিন যুবক আদালতে জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা ‘অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার’ দায় স্বীকার করেন। ওই মামলায় এসআই শামীম আল মামুন ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ঘটনার ৫১ দিন পর গত ২৩ অগাস্ট ওই কিশোরী মোবাইল ফোনে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে এনে পুলিশ সোর্পদ করেন। আদালতের নির্দেশে মেয়েটি এখন পরিবারের জিম্মাতেই আছে।
ওই কিশোরী আদালতে বলেছে, সে ইকবাল নামের এক যুবককে বিয়ে করে সংসার পেতেছিল বন্দর এলাকার এক ভাড়া বাড়িতে।
জানাগেছে, মেয়েটি ফিরে আসার পর অভিযোগ ওঠে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সেই শামীমের বিরুদ্ধে। এসআই শামীম গ্রেফতার হওয়া তিন যুবকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন জিজ্ঞাসাবাদে মারধর না করার কথা বলে।
জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, এ ঘটনা এলাকায় ‘চাঞ্চল্যের’সৃষ্টি হয়েছে। আসামিদের স্বীকারোক্তির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে দুটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটি এই তদন্তের স্বার্থে এসআই শামীমকে থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালে গঠিত দুটি কমিটির একটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা শহরের দেওভোগ এলাকায় সেই মেয়েটির বাড়িতে যায়। তারা ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং খোঁজখবর নেন।
ওই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, তারা মেয়েটি ও তার পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নিয়েছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, “নিখোঁজের পর ওই কিশোরী ৫১ দিন কোথায় ছিল, কার টেলিফোন কল পেয়ে সে ঘর থেকে বের হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
আরো জানান, আসামিদের স্বজনদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া, তা ফেরত দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর প্রমাণ পেলে জড়িত পুলিশ সদস্য এসআই শামীমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআই শামীমকে সরিয়ে দেওয়ার পর ওই ‘অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা’ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হাইকে।
আগামী বৃহস্পতিবার কিশোরীর কথিত স্বামী ইকবালের রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য্য রয়েছে। সদর মডেল থানা পুলিশ ওই অপহরণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।
বার্তা বাজার কে.কে