গোপনে প্রবাসীর রক্তাক্ত লাশ দাফনের চেষ্টা, স্ত্রী-সন্তান আটক

নারায়নগঞ্জ ফতুল্লায় নিজ বাসা থেকে জামাল হোসেন (৫৪) নামে এক সৌদি প্রবাসীর রক্তাক্ত লাস উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দাফনের আগে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রবাসী জামাল হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশের ধারণা ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহত প্রবাসী জামাল হোসেন ফতুল্লার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নিহতের স্ত্রী শারমীন আক্তার (৪৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলে তানভির হাসান ডালিমকে (১৮)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘ ২৫ বছর সৌদি আরব ছিলেন সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন। গত দেড় বছর আগে সে দেশে ফিরে এসে আর সৌদি ফিরে যাননি।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার নিজ বাড়ির বাথরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকে প্রবাসী জামাল হোসেনের লাশ। সে সময় ঘটনাটি পুলিশকে জানায়নি তার পরিবার। এমনকি জামালকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়নি। বুধবার সকালে গোপনে নিহত জামাল হোসেনের মরদেহ বাড়ির ছাদে নিয়ে গোসল করিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেয়। পরে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বুধবার সকালে জামাল হোসেনের লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। তারপর জামাল হোসেনের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। নিহত জামাল হোসেনের মাথায় আঘাতে চিহ্ন রয়েছে, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বার্তা বাজার কে.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর