মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ইভ্যালি ই-কমার্স অফিস খুলে প্রতারণার অভিযোগে ৩ যুবককে প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকাসহ জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। আটককৃতদের রাত ১২ টার দিকে শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ১২ টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মাজেদ খান উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটককৃতদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আবারো প্রশাসনে সোপর্দ করেন।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল নওয়াধা গ্রামের ফজল হকের ছেলে জামাল (৩৮), পারিল গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে রবিদুল ইসলাম (২৫),বলধারা গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে বিপ্লব (২৪)। প্রতিষ্ঠানের মালিক হেনা আক্তার ও তার স্বামী পলাতক রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইভ্যালি ইকমার্স কোম্পানীর নাম দিয়ে অবৈধভাবে হেনা আক্তার (৩০) নামের এক ব্যক্তি উপজেলার পারিল এলাকায় নিজস্ব অফিস নিয়ে ৭-৮ মাস যাবৎ ইভ্যালি অনলাইন শপিং এ পণ্যের লোভনীয় অফার দিয়ে স্থানীয় সহজ-সরল লোকদের কাছ থেকে অগ্রিম কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে আসছিল। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের ও সাংবাদিকদের অভিযোগে গত সোমবার(২৪ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে নিয়োগহীন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ৩ কর্মচারিকে আটক করেন।
পরে একই দিনে ওই কর্মচারিদের রাত ১২ টার দিকে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর শর্তে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে আটককৃতদের নিয়ে চেয়ারম্যান হাজির হলেও “ইভ্যালি” পরিচালনা ও লেনদেন করার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা যায়।
বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান জানান- প্রতিষ্ঠানের মালিক হেনা আক্তার বলেছিল “ইভ্যালি’ পরিচালনা করার জন্য তাদের কাগজপত্র আছে। সে-সুবাধে ইউএনও মহোদয়কে বলে আটককৃত ৩ জনকে আমার জিম্মায় নিয়ে ওদের কিছু কাগজপত্রসহ মঙ্গলবার হাজির হই। সেখানে বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় তাদেরকে আমি ইউএনও’র কাছে হস্তান্তর করি। তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- এরা এত বড় প্রতারনার ব্যবসা করছে আমার জানা ছিলনা।
এদিকে, ইভ্যালির ওয়েব সাইডে “ইভ্যালির” মানিকগঞ্জ, সিংগাইর শাখা বলতে কোন শাখা নেই, এ ধরনের কোন শাখার কার্যক্রমও নেই বলে সাবধান করে ঘটনার দিনই বিবৃতি দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, আটককৃত ৩ জনকে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়েছিলাম কাগজপত্র দেখানোর জন্য। কিন্তু সে ইভ্যালির সিংগাইর শাখার কোন বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। এখন ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আটককৃত ও সংশ্লিষ্টদের নামে মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
কেএস/বার্তাবাজার