সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাঁধা আর থানা পুলিশে অভিযোগ দিয়েও ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঠেকানো গেলো না এক খন্ড সরকারী জায়গার অপদখল।
সবকিছু থোড়াই কেয়ার করে প্রভাবশালী দখলবাজরা উপজেলার চরঘোষপুর এলাকায় বারাশিয়া নদীর প্রায় ১০ শতাংশ জায়গা গায়ের জোরে দখল করে সেখানে ঘর তোলার কাজ সম্পন্ন করেছে। এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা শারীরিক ভাবে লাঞ্চিতও হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরঘোষপুর এলাকায় বারাশিয়া নদীর তীরবর্তী উল্লেখিত জায়গাটি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো ওই এলাকার মৃত লাল মোহাম্মাদের ছেলে মিজানুর রহমান গং।
এ লক্ষে তারা গত ২০ আগস্ট সংঘবদ্ধ হয়ে জায়গাটিতে ঘর তোলার উদ্যোগ নেয়। সংবাদ পেয়ে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী মো. জামিল হোসেন সহ তিন কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন। তারা ঘর তোলার কাজে বাঁধা প্রদান করলে উত্তপ্ত বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে দখলদার মিজানুরের নেতৃত্বাধীন কতিপয় দূষ্কৃতিকারী জামিল হোসেনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। তুই-তুকারি সম্বোধনে গালিগালাজ সহ তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দখলবাজরা জামিল হোসেনকে বলেন, ‘তুই যা পারিস কর গিয়ে আর আমরা যা পারি তাই করে দেখাবো’।
দুঃখ ভারাক্রান্ত চিত্তে জামিল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেও পরবর্তীতে তারা আইনগত আর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষও স্তিমিত হয়ে যান। ফলে এ সুযোগে ইতিমধ্যেই আলোচ্য জায়গাটির দখল নিয়ে সেখানে একটি ছাপড়া ঘর তোলার কাজ সুচারু রুপে সম্পন্ন করে ফেলেছে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী দখলবাজ ওই চক্রটি।
এক প্রশ্নের জবাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লাঞ্ছিত হওয়া কর্মকর্তা জামিল হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ভোগদখলের বৈধ কোন কাগজপত্র অভিযুক্তদের নেই। তাই দখল ঠেকাতে গিয়ে মার খেয়েছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও সুফল পায়নি। ঘটনা আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন দেখা যাক তারা কি সিদ্ধান্ত নেন।’
ঔদ্ধত্য পূর্ণ কন্ঠে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ভূমিহীন। সরকারী জায়গা আমরা খাবনা- তো করা খাবে? এর আবার কিসের কাগজপত্র লাগবে?
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেএস/বার্তাবাজার