কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীরে একাত্তরের মুক্তাঞ্চল খ্যাত উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুর কুড়িগ্রাম জেলার মুল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রতিনিয়ত জেলায় দাপ্তরিক কাজসহ ব্যবসা-বানিজ্য ও মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই দুই উপজেলা বাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে সার্বক্ষণিক আসা-যাওয়া করতে হয়।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ,শেরপুর,জামালপুর আবার রংপুর,গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার লোকজন তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌছার জন্য উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদ ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বিভিন্ন মালামাল ও যাত্রী পারাপার হয়। যা খুব ঝুঁকিপুর্ণ স্বাচ্ছন্দে স্বল্প সময়ে এবং অল্প খরচে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার জন্য- রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি রৌমারী উপজেলা শাখা কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল ইমরান এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)বেলা ১২টার দিকে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-গণকমিটির সভাপতি কেএম শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক এস.এম.এ মোমেন, নৌ বিষয়ক সম্পাদক কে.এম ফেরদৌস।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবিগুলো হলো:
১। রৌমারী,রাজিবপুর,কর্তিমারী টু চিলমারী,ফকিরের হাটসহ কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত সকল ঘাটে যাত্রী ভাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই ৭০টাকার ভাড়া ১০০টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা সামাজিক দুরত্ব মানা হয়নি। সরকার বাসভাড়াও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তাই
নৌকা ভাড়া কমানো দরকার।
২। যাত্রীভাড়া ১০০টাকার স্থলে ৫০টাকা এবং মোটর সাইকেল ভাড়া( ৭০/টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা) নির্ধারন করতে হবে।
৩। এ দুই উপজেলায় প্রসূতি মা শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষায় দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করতে হবে।
৪। যাত্রী সেবার স্বার্থে বর্ণিত ঘাট গুলিতে টয়লেট, নৌকায় ওঠা-নামার জন্য ঝুঁকিহীন সিঁড়ি/মই, যাত্রী সুরক্ষায় লাইফ জ্যাকেট, মজবুত নৌকাসহ দক্ষ মাঝি-মাল্লা দ্বারা পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। প্রতি ঘন্টায় যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে।
উপরোক্ত দাবীসমুহ স্বপ্ল, মধ্যম এবং দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনায় যুক্ত করে বাস্তবায়ন করা হলে
রৌমারী, চিলমারী,রাজিবপুর তথা কুড়িগ্রামের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে মনে করে গণকমিটি।
বার্তা বাজার / ডি.এস