ময়মনসিংহে পাথরের পরিবর্তে দুই নম্বর সুড়কি দিয়ে ২ কিলোমিটার রেল লাইনের কাজ করা হচ্ছে। ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি লোকোসেড হতে শুরু করে স্টেশন পর্যন্ত ইটের সুড়কি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এলাকার সকলের মধ্যে এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
তাহলে কি দুই নম্বর ইট দিয়েও কাজা করা হয়ে রেলপথের উন্নয়ন কাজ? ময়মনসিংহের রেল কর্মকর্তারা অনেক টাকা বাঁচিয়ে দিল সরকারের। এমন চিত্র দেখেছেন কোনদিন? এমন বহু প্রশ্ন এখন এলাকার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
এই অঞ্চলের লাইনের বেশিরভাগ অংশই নিচু। সামান্য বৃষ্টিতে জমে থাকে পানি। এর ফলে পঁচে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে কাঠের স্লিপারগুলো। আর এই কারনে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়ে। তারই প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ দুই কিলোমিটার অংশে ইটের সুড়কি বিছিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের কাজ করা হয়েছে নিম্নমানের সুড়কি দিয়ে। জমিয়ে রাখা সুড়কিগুলো দেখলেই দুই নম্বর বুঝতে পারবে যে কেউ।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে সব মহলে বইছে নিন্দার ঝড়। অনেকেই ময়মনসিংহ রেলওয়ের গাফিলতি আর দুর্নীতিকেই দায়ী করছেন। পাথরের পরিবর্তে দুই নম্বার ইটের সুড়কি দিয়ে টাকা লোটপাট করা হচ্ছে।
এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইন মেরামত ইটের সুড়কি দিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ কাজটা কোনো যৌক্তিক কাজ হতে পারে না। কারণ এই লাইনটিতে ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা আগেও কয়েক বার ঘটেছে। পাথরের পরিবর্তে ইটের সুড়কি ব্যবহার পরবর্তীতে আরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনেকরেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, রেললাইনে ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে কেউ এমন অবস্থা কোন দিন দেখেছে বলে আমার মনে হয় না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, পাথর কেনার কোনো বরাদ্দ নেই সরকারিভাবে। টেন্ডার করে পাথর কিনে আনতে অনেক সময়ের ব্যাপার। কিন্তু অনেক নিচু ওই জায়গাটি। কাঠের স্লিপার লাগানো দুই কিলোমিটার রেললাইনের সম্পূর্ণ অংশে । সেগুলো পানি জমে যেন পঁচে নষ্ট না হয় সেজন্য আপদকালীন সময়ে এই ব্যবস্থা করেছি।
মো. নাজমুল হাসান জানান, আমি কী করব পাথর কেনার বরাদ্দ না থাকলে? তাই পাথরের পরিবর্তে ইট দিয়ে অল্প টাকায় মেরামত করার চেষ্টা করেছি। আমি পাথরের পরিবর্তে ইট দিয়ে কাজ করে হয়তো টাকা আত্মসাৎ করেছি বলে সবাই মনে করতে পারে। তবে তারা কেউ জানে না এই কাজে আমার কোনো গাফিলতি নেই।
তিনি আরও জানান, রেললাইনের এটি মেইন লাইন না। তারপরও পাথর দিয়ে কাজ করার দরকার ছিল। ইট, বালি দিয়ে এই কাজটি করার ফলে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার সম্ভবনার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে যখন বরাদ্দ আসবে তখন পাথর দিয়েই এই রেললাইনের কাজ করা হবে।
দুই নম্বর সুড়কি বিছিয়ে রেললাইনের কাজ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়টি জানতে পেরেছি। আর সে সম্পর্কে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি কখনও যেন নিম্নমানের ইট, সুড়কি ও বালি ব্যবহার করা না হয়। আমার কাছ থেকেই কাজ শেষে বিল নিতে হবে। এরপরও যদি দুই নম্বর কিছু ব্যবহার করা হয় বিল কম দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা বাজার কে.কে