বাংলার ভলটেয়ার হিসাবে খ্যাত কবি আশরাফ আলী খাঁনের ১১৯তম জন্মদিন আজ। ১৯০১ সালের আজকের এই দিনে তিনি তৎকালীন যশোর (বর্তমান ফরিদপুর) জেলার অন্তর্গত আলফাডাঙ্গা উপজেলার পানাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
আশরাফ আলী খাঁন গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক পাঠ সমাপনী করে পার্শ্ববর্তী লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯১৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন ।এরপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে আই,এ শ্রেণীতে ভর্তি হন। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িত হওয়ার কারণে আর পড়াশোনা করতে পারেননি।
পরে কলকাতা ইনকাম ট্যাক্স অফিসে কেরানী পদে যোগদান করেন। অতঃপর আয়কর বিভাগে চাকুরী করে হায়দরাবাদে রেজিমেন্ট সৈনিকে যোগদান করেন। কিন্তু সৈনিকের চাকরি তার ভালো লাগে না। প্রকৃত প্রস্তাবে আশরাফ আলী খানের মধ্যে ছিল সাহিত্যিক সত্তা। কাজেই ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে সাপ্তাহিক বেদুইন, রক্তকেতু, নওজোয়ান, দৈনিক সুলতান ও শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তাঁর ‘ভোরের কুহু’ গজল গানের পুস্তক প্রকাশিত হয়। পরে তিনি আল্লামা ইকবালের ‘শেকোয়া’র অনুবাদ করেন। বিদ্রোহী আশরাফ মুসলমানদের অধিকারের জন্য কলকাতা-ঢাকা জিহাদ কমিটি গঠন করেন।
‘কঙ্কাল’ তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে- বিপ্লবী কবি, ভোরের কুহু, মোয়া, গাজী আমানুল্লাহ্, অহংকারী, আকাশের তলে ঘর (উপন্যাস), টুকরী, আনোয়ার পাশা, বাস্তব কাব্য, রাজপথ, মা, বজ্র কিষাণ উল্লেখযোগ্য।
পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের মাধ্যমে কবি আশরাফ আলী খাঁন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর ‘কঙ্কাল’ কাব্যগ্রন্থ উপহার দেন; রবীন্দ্রনাথ কিছু অংশ পড়ে বইটির প্রশংসা করেন। আর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে কবির আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো। তার পান্ডিত্যে পন্ডিতসমাজ তাকে বাংলার ‘ভলটেয়ার’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কবির জন্মদিনে আসিফ ইকবাল নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক স্ট্যাটাসে আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখেন, ‘ গত শতকের প্রথম দিকে ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতের মুসলিম লেখকদের অন্যতম অগ্রসর এই প্রতিভাবান কবির জন্মদিন কেউ স্মরণ করে বলে মনে হয় না। তার নিজ গ্রামেই দারুণভাবে অবহেলিত।
তার লেখার চর্চা, জীবনী নিয়ে আলোচোনা এতই কম অথবা পারিবারিকভাবে সীমাবদ্ধ- যে এই গ্রামের সন্তান হিসেবে নিজের অপরাধবোধ লুকানো কষ্টকর। অসাধারণ সব লেখা বিশেষকরে “কঙ্কাল” কাব্যগ্রন্থ কিংবা উপমহাদেশের প্রখ্যাত কবি আল্লামা ইকবালের “শিকওয়া”র বাংলা অনুবাদের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। আমরা নিজেদের গর্ব করার মত এই মনিষীকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে ব্যার্থ হয়েছি। আজ কবির জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।’
প্রবল আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কবি আশরাফ আলী খাঁন সীমাহীন দারিদ্রতার কারণে ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর আফিম খেয়ে কলকাতায় আত্মহত্যা করেন।
বার্তাবাজার/এমকে