ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নতুন পানিতে চলছে মাছ শিকার করার উৎসব। মাছ শিকার উৎসবে মেতে উঠেছেন সৌখিন শিকারিরা। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে খাল-বিল, নদীতে নতুন পানি এসেছে। নতুন পানিতে মাছ শিকারের জন্য হাট-বাজারে টেঁটা কেনার জন্য ছুটছেন সৌখিন শিকারীরা।
আদিকাল থেকেই মাছ শিকারীদের কাছে টেঁটা তথা গ্রাম অঞ্চলের ভাষায় ফুলকোঁচি কিংবা কোঁচ নামক যন্ত্রটি খুবই জনপ্রিয়। টেঁটা একটি দীর্ঘ বর্শার মত যা দিয়ে সহজেই নিক্ষেপ করে যেকোন ছোট বড় মাছ শিকার কাজে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক যুগেও মাছ শিকারীদের কাছে এখনও টেঁটার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে টেঁটা বিক্রয়ের অনেক অস্থায়ী দোকানে প্রচুর ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবছর টেঁটা ক্রয়ের চাহিদা বেশ বেড়েছে। টেঁটা তৈরি করতে বাঁশের চিকন কঞ্চি (কুড়া) ফুলকোঁচি এবং নাইলন সুতার প্রয়োজন হয়।
কেউ কেউ শুধু ফুলকোঁচি কিনে বানানোর ঝামেলা এড়াতে বিক্রেতাদের ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশী দিয়ে তৈরি করিয়ে নেন সম্পূর্ণ টেঁটা। আবার কোন কোন শিকারী শুধুই ফুলকোঁচি ও কুড়া কিনে নিয়ে বাড়ীতে নিজেরাই বানিয়ে নিচ্ছে সম্পূর্ণ টেঁটা। একটি টেঁটা সম্পূর্ণ তৈরি করতে প্রায় ৩০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হয়।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম বাজারে টেঁটা বিক্রেতা রিপন বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘প্রতি বছর আষাঢ় মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত এ টেঁটা বিক্রি করে থাকি। তবে এবছর টেঁটা ক্রেতাদের চাহিদা ব্যাপক। তিনি আরো বলেন, একটি টেঁটা ২৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত রাখি এবং কুড়া ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত রাখি। তবে কেউ যদি সম্পূর্ণ টেঁটা তৈরি করে নেন তবে ৩০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দাম পরে।’
টেঁটা ক্রয় করতে আসা সুলতান খাঁন নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘মাছ শিকার করা আমার নেশা। আর এই মাছ আমি টেঁটা দিয়ে শিকার করি। তবে এ বছর টেঁটার দাম তুলনামূলক ভাবে একটু বেশী।’
বার্তাবাজার/এমকে