ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও পরে গর্ভের ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। ঘটনায় অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারী ফাতেমা আক্তার বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের মাছুয়াখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন খন্ডকালীন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

আজ সোমবার (২৪ আগষ্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে ওই নারী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের মাছুয়াখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন খন্ডকালীন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে একই উপজেলার অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

তখন সে তার পূর্বের সন্তান ও বিয়ের কথা গোপন রাখে। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ফাতেমা আক্তার গর্ভবতী হয়ে পরেন। পরে তাকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাকে গর্ভপাত ঘটিয়ে গর্ভের ভ্রুন নষ্ট করে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার একটি ক্লিনিকে। পরে তাকে ফাতেমা আক্তার বিয়ের চাপ দিলে অধ্যক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

ফাতেমা আক্তার এই বিষয়ে প্রথমে মামলা করতে গেলে থানায় নানা রকম হয়রানীর শিকার হতে হয়। পরে থানায় মামলা নিলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি ভ্রুণ নষ্টের বিষয়টি। এমনকি এখনও আসামীকে গ্রেপ্তার না করে গড়িমসি করছে পুলিশ। এই অবস্থায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ফাতেমা আক্তার।

এ ঘটনার অভিযুক্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী তালাকপ্রাপ্ত একজন নারী। একটি সন্তানও রয়েছে তার। ফাতেমা আক্তার যে মামলা দিয়েছে আমার বিরুদ্ধে, তাতে তার নাম উল্লেখ করেছেন ফাতেমা আক্তার। তালাকপত্রে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম রুমানা আক্তার। সে নিজেকে যে স্বাস্থ্যকর্মী পরিচয় দেয় তাও ঠিক নয়।

অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম আরো বলেন, সে কোনদিন মাছুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করেনি। ডাক্তারি পরীক্ষায় কোন ধরনের ধর্ষণের আলামতও মেলেনি। আসলে আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ওই মহিলাকে অপপ্রচারে নামিয়েছে। আর এ জন্যই আমার বিরুদ্ধে সে বরিশাল নগরীতে গিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে আসছে।

বার্তা বাজার কে.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর