মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অনলাইন শপিং ইভ্যালী ইকমার্স এর প্রতারনার অভিযোগে ৩ যুবক আটকসহ প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা জব্দ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। সোমবার(২৪ আগস্ট) দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার বলধারা এলাকায় উপজেলা নির্বার্হী অফিসার রুনা লায়লার ঝটিকা অভিযানে থানা পুলিশের সহযোগীতায় তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল নওয়াধা গ্রামের ফজল হকের ছেলে জামাল (৩৮), পারিল গ্রামের ওয়াজউদ্দিনের ছেলে রবিদুল ইসলাম (২৫), বলধারা গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৪)। অভিযুক্ত হেনা আক্তার একই এলাকার মো. কামাল হোসেনের স্ত্রী।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হেনা আক্তার উপজেলার পারিল এলাকায় অফিস নিয়ে ইভ্যালী অনলাইন শপিং এ পন্য বিক্রির নামে প্রায় ৭-৮ মাস যাবৎ বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা সংগ্রহ করে আসছে। পন্য দেওয়ার সময় হলে লোকজনদের আজ-কাল করতে ঘুরাতে থাকে। এদিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৬০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা করে সংগ্রহ করতে থাকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়ে সোমবার অভিযান চালিয়ে ইভ্যালী অনলাইন শপিংয়ের ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোন বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের ৩ কর্মকর্তাকে আটক করেন। অভিযুক্ত হেনা আক্তার ও তার স্বামী মো.কামাল হোসেনকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ফোন করলে তারা কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, অভিযুক্ত হেনা আক্তার ইভ্যালী ইকর্মাস প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৭ মাস যাবৎ ইভ্যালীর পন্য বিক্রির অগ্রীম কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এক দু-জনকে পন্য দিলেও অধিকাংশ গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ঘুরতে থাকে। এতে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছে ইভ্যালীর কোন বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় ৩৮ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩ শত নগদ টাকাসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। তিনি জানান, টের পেয়ে ব্যাগে করে টাকা নিয়ে সটকে পড়ার মতলব ছিলো তাদের। আটককৃতদের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে মানিলন্ডারিং মামলা করা হতে পারে। ভুক্তভোগীদের যেন আর্থিক ক্ষতি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
বার্তা বাজার / ডি.এস