চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন। তার পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাচ্ছে ৫০ লাখ টাকা। তবে শর্ত থাকে, মিজানুর রহমানের স্ত্রী পুনঃবিয়ে করবেন না এই মর্মে অঙ্গীকারনামা দিতে হয়েছে।
এটাই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী কোনো পুলিশ সদস্যকে সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের ঘটনা । এর আগে কর্মরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মরহুম আবদুল্লাহ আল মোহসীন ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মঈন উদ্দিনের স্ত্রী সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ পেলেন।
৭টি শর্ত ছিল ক্ষতিপূরণের আবেদনে ওই দুই কর্মকর্তার জন্য। আগের এই শর্তগুলোতে মৃতদের স্ত্রী পুনঃবিবাহ করবেন না মর্মে কোন অঙ্গীকারনামা দেওয়ার কথা ছিলনা। কিন্তু চট্টগ্রাম পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মিজানুর রহমানের স্ত্রীকে থেকে নতুন করে এই অঙ্গীকারনামা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে মৃত্যুবরণকারী দুই কর্মকর্তার আবেদনের সঙ্গে যে শর্ত ছিল- করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণের সনদপত্র, করোনা নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি জেলার দায়িত্বে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত থাকার অফিস আদেশ, মৃত কর্মকর্তার ও তার স্ত্রীর এনআইডি, কর্মস্থলের অগ্রায়ণপত্র, করোনা প্রতিরোধে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত ছিলেন মর্মে প্রত্যয়নপত্র ও মরহুম কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন গ্রেডের দলিলাদি দিতে বলা হয়েছিল ক্ষতিপূরণের আবেদনের সঙ্গে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানের স্ত্রীর ক্ষেত্রে আগের শর্তের সঙ্গে নতুন করে পুনঃবিয়ে না করার অঙ্গীকারনামা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তারই সঙ্গে এনআইডিতে স্বামী হিসেবে মৃত্যুবরণকারী কর্মকর্তার নাম আছে কি না—তা নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। আগের দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এমনটা ছিল না। শুধু এনআইডি চাওয়া হয়েছিল দুই জনের ।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনায় মৃত্যুবরণকারী পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের নামে দুই-একদিনের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা অনুমোদনের জন্য চিঠি দেওয়া হবে চিফ অ্যাকাউন্টিং অফিসারের কাছে। এই অর্থ দেওয়া হবে সরকার ঘোষিত ‘স্বাস্থ্য ঝুঁকি ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ অনুদান’ ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা থেকে।
বার্তা বাজার কে.কে