খানসামায় কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলা বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক‌ কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে টাকার বিনিময়ে একজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হয়েছে। পদ বঞ্চিতরা ও প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক কমিটির আলোচনা সভা বানচাল করার জন্য অবস্থান নিলেও আহ্বায়ক কমিটির নেতারা বলছেন, টাকার বিনিময়ে কাউকে পদ দেওয়া হয়নি এবং আমরা সফলভাবেই আলোচনা সভা করে আসছি।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মিসেস রেজিনা ইসলাম স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে খানসামা উপজেলায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই আহবায়ক কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্য়্ক‌ করা হয় মিজানুর রহমান চৌধুরীকে। কিন্তু উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ মিজানুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে মানতে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এই পদ হাতিয়ে নিয়েছেন।

খানসামা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন আলী মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আহ্বায়ক পদে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমরা যারা যুগ যুগ ধরে বিএনপির জন্য মামলা হামলার শিকার হয়েছি তারা পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। দলে যাদের কোন অবদান নেই তাদেরকে পদ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. শামসুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘এই আহ্বায়ক কমিটিতে এমন কতগুলো লোক এসেছে যারা দলের জন্য কিছুই করেননি। দলের জন্য যাদের কোন ভূমিকাই নেই। র্দীঘদিন ধরে যারা দলের হাল ধরে ছিল তাদের আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি। মাত্র দশ টাকায় একটি সদস্য পদ কিনে মিজানুর রহমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি মাত্র এক মাসের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পায় এ বিষয়টা আমাদের কিছুতেই মাথায় আসে না! বিএনপি কি দেউলিয়া হয়ে গেছে যে আহ্বায়ক কমিটিতে মিজানুর রহমানের মত নব্য সদস্যকে পদ দিতে হবে!’

বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের পদে থাকা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে যুক্ত মসলেম উদ্দিন সরকার বলেন, ‘বর্তমান আহবায়ক কমিটি ৫জন লোকও জোগাড় করতে পারবে না। আমি বিএনপির জন্ম থেকে এই দলের সাথে আছি। কিন্তু নতুন একজন সদস্যকে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো আমার জীবনে কখনোই দেখিনি। আমি শুনেছি মোটা অংকের টাকা দিয়ে তিনি ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের পদটি হাতিয়ে নিয়েছেন।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘টাকা দিয়ে পদ পাওয়া গেলে অনেকেই আজকে এমপি মন্ত্রী হতেন। টাকা দিয়ে পদ নেওয়ার বিষয়ে যারা অভিযোগ করেছেন তারা মিথ্যে, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। মূলত আমার নিজের ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান চৌধুরী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। আমি তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে এসেছি। আমার ছোট ভাই মারা যাওয়ার পর আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হই। দল আমাকে আহ্বায়ক কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দিয়েছেন। এখানে টাকার কোন বিষয় জড়িত নেই।’

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উপায়ে কেন্দ্র থেকে আমাদের এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। যারা বিরোধীতা করছেন তাদেরকে আমি বারবার বলেছি আমাদের সাথে বসার জন্য। কিন্তু তারা বসে না। বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন কথা বলে। আমরা আজকেসহ (রবিবার) তিনটি সভা করেছি। আমরা মাস্ক বিতরণ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন বিষয়ে আলোচনা করেছি। যেটা প্রশাসনের কাছেও অবহিত আছে।’

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মিসেস রেজিনা ইসলাম বলেন, ‘খানসামা এবং চিরিরবন্দর উপজেলা বিএনপির কমিটি আমরা দেইনি। আমরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পরে কেন্দ্র থেকে তাদের কমিটি দেওয়া হয়েছে।’

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর