রশিতে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সেই মা-মেয়ে কারাগারে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চোর সন্দেহে চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার সেই মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয়রা গরু চোর আটক করেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় ২ নারী ও ৩ পুরুষ সদস্যকে স্থানীয় ইউপি কার্যালয় থেকে আটক করে প্রথমে চকরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নির্যাতিতা মা-মেয়ে নির্যাতনের কোনো অভিযোগ করেনি জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এভাবে রশি বেঁধে নির্যাতন করে পাড়া-মহল্লায় ঘোরানোর বিষয়টি প্রথম অবস্থায় আমরা জানতে পারিনি। বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপি কার্যালয় থেকে পুলিশ তাদের নিয়ে এসেছে। পরে নির্যাতনের একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে নেয়।

পুলিশ মামলার বাদী ও আসামিদের পরিচয় দেয়নি। তবে একটি সূত্র জানায়, এই মামলার বাদী উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকার মাহবুবুল আলম।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার দুপুরে গরু চোর সন্দেহে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় প্রথমে স্থানীয়রা একদফা মা-মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। পরে গ্রাম পুলিশ মা-মেয়েকে এক রশিতে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর তাদের ওপর পুণরায় নির্যাতন চালানো হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠলেও চেয়ারম্যান তা অস্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। স্থানীয় জনতা ৫ জন গরু চোর আটক করলে তিনি পুলিশ ও ইউএনওকে ফোন দিয়ে সহায়তা করেছেন। তাদের আমি কোনোভাবে নির্যাতন করিনি এবং তাদের দেখেনি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর