গত ২৯ জুন সদরঘাটে নৌ-দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪ জনের লাশ দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো দেশ। এরপর পেরিয়ে গেল দুই মাস। মামলার এজাহারভুক্ত সকল আসামী গ্রেফতার হলেও অভিযোগপত্র দাখিলের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামী বের হয়ে যেতে শুরু করেছেন জামিনে।
মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টী থেকে সরদরঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে রাজধানীর শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ধাক্কা দেয় ময়ুর-২ নামের একটী লঞ্চ। এতে সাথে সাথেই ডূবে যায় মর্নিং বার্ড।
এর পরদিন সদরঘাট নৌ-পুলিশের এসআই শামসুল আলম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল আলম। মামলায় আসামি করা হয় ময়ুর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার, মাস্টার জাকির হোসেন, স্টাফ শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, হৃদয় ও সুকানি নাসির মৃধার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-সাতজনকে
এর মাঝে গত ৬ জুলাই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ময়ূর-২ লঞ্চের সুপারভাইজার আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ৮ জুলাই ওই লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, ১২ জুলাই মাস্টার আবুল বাশার, ১৪ জুলাই দুই ইঞ্জিন চালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেন, ১৫ জুলাই সুকানি নাসিরুদ্দিন মৃধা, ২৩ জুলাই সহকারী মাস্টার জাকির হোসেন এবং ২৬ জুলাই এই মামলার এজাহারভুক্ত সবশেষ আসামি হৃদয় গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের পর আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মাস্টার আবুল বাশার ও সুকানি নাসির। জবানবন্দিতে বাশার ও নাসির একে অপরের উপর দায় চাপান। এছাড়া নাসিরের জবানবন্দিতে ময়ূর ২ এর মালিকের দায়ও ওঠে আসে।
এজাহারভুক্ত সব আসামি গ্রেফতারের পরও পেরিয়ে গেছে প্রায় এক মাস। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কোনো খবর নেই।
ইতোমধ্যে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহারের প্রথম দফায় বেধে দেওয়া ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময় পেরিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোর্শেদ তালুকদার বলেন, এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের ব্যাপারে এখনই কোনো সময়সীমা বলতে পারছি না। মামলার আসামিরা গ্রেফতার হলেও সবদিক যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে। সব মিলিয়ে অভিযোগপত্র দাখিলে আরও সময় লাগবে।
তবে অভিযোগপত্র দাখিলে এই দেরির কারণই আসামিদের জামিনে বেরিয়ে যেতে সহায়ক হচ্ছে। কারণ এ মামলার এজাহারে দায়িত্বে অবহেলা ও বেপরোয়াভাবে মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে ডুবিয়ে দিয়ে প্রাণহানির জন্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৩৩৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রত্যেকটি ধারা জামিনযোগ্য। এসব অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ৩০৪ (ক) ধারায় আনা হয়েছে। এই ধারায় অবহেলায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর কারাদণ্ড।
ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ গত ২৯ জুলাই ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
বার্তাবাজার/এসজে