ফরিদপুরের সালথায় গ্রাম্য দলাদলিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০ জন আহত ও অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাওয়াল গ্রামে গতকাল শুক্রবার রাতে লুৎফর মাতুব্বরের বাড়ীতে ভাওয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহাব মাতুব্বারের দলের এক দলীয় মিটিং হয়।
এরই জের ধরে, আজ শনিবার সকাল ১০টায় ভাওয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহাব মাতুব্বারের সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামানের সমর্থক ভাওয়াল গ্রামের বাসিন্দা মুকা মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক বাড়ীঘর ভাংচুর, গরু-ছাগল,পাট, পিঁয়াজসহ বসতঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সংঘর্ষকারীরা।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আধিপত্য বিস্তার বা গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো রীতিমতো ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে সালথা উপজেলায়। পান থেকে চুন খসে পড়লেই দা, লাঠি, টেঁটা, রামদা, বল্লম, ঢাল, সরকির মতো দেশীয় মারণাস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া যেন নিত্য দিনের সঙ্গী। দীর্ঘদিন যাবৎ চলা এসব গ্রাম্য সংঘর্ষে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকে। এছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুট করে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিটি সংঘর্ষে।

সাধারণ জনগনের ভাষ্যমতে, এলাকায় যার আধিপত্য থাকে তিনি আর্থিকসহ নানা সুবিধা ভোগ করেন। এর ফলে ছোট-খাটো ঘটনাগুলো সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রতিটি সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়। আর ওই সব মামলায় গ্রাম্য মাতুব্বরদের কারণে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
বার্তা বাজার / ডি.এস