ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহাকে প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের (নির্বাচিত) পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার (২২ আগষ্ট) সকালে উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ তাদের নিজ নিজ বিভাগে যোগদান করেন। পরে আইন অনুষদের ডীনের কক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং তাদেরকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এসময় সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের সঞ্চালনায় এসময় সদ্য বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা তার দায়িত্ব পালনকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এসময় সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অকৃপণ উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহযোগিতা আমাদের চলার পথকে সুগম করেছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য যারা তারা হলো আমার এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে যারা রয়েছেন, আমার সুপ্রিময় সহকর্মী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রধানত আমার প্রাণপ্রিয় ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। আমি মনে করি আমার মূল প্রেরণা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তিনি আরো বলেন, আমার এ ৪ বছরের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যদি আপনাদের মনে আঘাত দিয়ে থাকি। যদি কোনো সংক্ষোভের কারণ হয়ে থাকি সেটি আপনারা আমার গুনে না, নিজগুণে ক্ষমা করে দিবেন। সবশেষে তিনি বলেন, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, মাননীয় উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ মহোদয় সর্বোচ্চ উদারতা দেখিয়েছেন। এখান থেকে আমরা শিক্ষাগ্রহণ করে যেন সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে পারি। স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা তিনজন গত চার বছরে যতো সময় একসাথে ছিলাম এতো বড় সময় আমরা নিকটতম আত্মীয়র সাথেও থাকিনি। হঠাৎ করে এই চারটি বছর কখন শেষ হলো সেটি ভাবতেই বিস্মিত হচ্ছি। তিনি আরো বলেন, সততা, নিষ্ঠা, উদারতা এবং পরিচ্ছন্নভাবে কাজ করবার যে নজির এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে, সে নজির ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। একমাত্র এই প্রশাসনের পক্ষে এটি সম্ভব ছিল। আজকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জাতির কাছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দৃশ্যমানভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইবি শাখার (নির্বাচিত) সভাপতি অধ্যাপক ড. রুহুল কে এম সালেহ, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া রহমান, সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তফা জামাল হ্যাপি, শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মেহের আলী, অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ড. ইয়াসমীন আরা সাথী, ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ।
বক্তারা শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী এবং বর্তমান প্রশাসনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। ইবিকে দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২১ আগষ্ট ১২ তম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী ইবির দায়িত্ব গ্রহন করেন। একইদিনে দশম কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হন। গত ২০ আগস্ট ইবি উপাচার্য ও ট্রেজারার তাদের মেয়াদপূর্ণ করেন, ইতিপূর্বে কোন উপাচার্য তাদের মেয়াদ পূরণ করতে পারেন নি। সফলভাবে তাদের স্ব স্ব পদের মেয়াদকাল সম্পন্ন করায় তাদেরকে এ সম্মানজনক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস