পাহাড়, ছোট ছোট নদী, ছড়া ও সমতল ভূমি মিলে এটি একটি অপরূপ সৌন্দর্য্যমন্ডিত খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা। একটু পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অনেক অফিসাররাই এখানে থাকতে চান না। সেজন্য হয়তো সাধারনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও কমেনি কখনো। কিন্তু সেই সঙ্কট এবার কিছুটা দূর হয়েছে।
রামগড়ে এখন আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব নেই। ধনী-গরিব ছোট-বড় সবাই এখন সরকারি কর্মকর্তাদের সান্নিধ্য পাচ্ছেন। আ.ন.ম. বদরুদ্দোজা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিজের অফিসের দরজা খুলে দেয়া এখন প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে।
উপজেলার অন্যতম প্রধান খাত পর্যটনও এগিয়েছে অনেক দূর। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘এক ইঞ্চি ভূমি ও অনাবাদী রাখা যাবে না’ এই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে বদরুদ্দোজা পাহাড়ী অনাবাদী ভূমিগুলোকে আবাদী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তার অনুপ্রেরণায় কুমিল্লার কিছু উদ্যোক্তা পার্বত্য শান্তি চুক্তি আইন মেনে অবহেলা এবং অযত্নে পড়ে থাকা ১৫ একর ভূমি বাগান করেছেন। বাগান করতে স্থানীয় জমির মালিক মো. মুসা মিয়া এবং মো. শাহজাহানের থেকে ৩০ বছরের জমি লিজ নিয়েছেন।
১৫ একর জমিতে দেশি-বিদেশি প্রায় আট হাজার চারা রোপন করেছেন উদ্যোক্তারা। বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। ফলে করোনাকালীন দুর্যোগে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়ে আশেপাশের জমির মালিকরাও তাদের অনাবাদি জমি আবাদী করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বদরুদ্দোজা রামগড়ে যোগদান করার কিছুদিনের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দেয়। করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার পৌঁছে দিয়েছেন প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে। ত্রাণের প্যাকেট তৈরি থেকে বণ্টন পর্যন্ত অন্যদের সঙ্গে নিজে হাতে করেছেন সব কাজ।
স্থানীয় দিনমজুর জ্যোতি রানী ত্রিপুরা বলেন, করোনার মধ্যে কোনো কাজ ছিল না। তখন বাগানে কাজ করার সুযোগ পাই। যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে।
রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক জানান, ইউএনও আ.ন.ম. বদরুদ্দোজা রামগড়ে যোগদানের কিছুদিনের মাঝেই সবার সাথে সমন্বয় ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া রামগড় পার্কের সৌন্দর্যবধর্নে পার্কের সংস্কার এবং আলোকসজ্জার কাজ করেছেন। পুরো উপজেলার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে স্থাপন করেছিলেন সিসিটিভি ক্যামেরা। রামগড় সোনাইপুল টেলপ্লাজার ব্যপক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। যা পূর্বের কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা করেনি।
নির্বাহী কর্মকর্তা আ. ন.ম.বদরুদ্দোজা ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিদায়লগ্নে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অল্প সময়ে প্রকৃতি কন্যা রামগড় ও এর সহজ সরল মানুষগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছি। ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে তবুও সরকারি আদেশে যেতে হবে। সব সময় শুভ কামনা থাকবে রামগড় বাসীর জন্য।
আ.ন.ম. বদরুদ্দোজার জন্ম চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায়। পড়ালেখা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালের ১ আগস্ট শরীয়তপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মজীবন শুরু করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এবং খাগড়াছড়ির রামগড়ে দায়িত্বপালন করেছেন।
বার্তাবাজার/এমকে