ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষের নামে তারই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামী করা হয় জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া জামিয়া ছোবহানীয়া মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী (৩৫) এবং তার পিতাসহ ৫ জনকে। আদালত থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে।

মামলার এজহারে বলা হয়, মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী দুমাস পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে তারুয়া গ্রামে জামিয়া ছোবহানীয়া মহিলা মাদরাসাটি চালু করেন। মহিলা মাদরাসা হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে নিজে থাকার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন। সেখানে পড়াশোনার জন্য নাসিমা বেগম তার ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ভর্তি করান।

এর কয়েকদিন পর থেকেই মাওলানা অলিউল্লাহ ছোবহানী নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিতে শুরু করে মেয়েটিকে। এক পর্যায়ে গত ৯ আগস্ট মাওলানা ছোবহানীর মাদ্রাসা সংলগ্ন ঘরে নিয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটি আত্মহত্যা করবে বলে জানালে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কয়েকটি ডায়েরির পাতায় বিয়ের কথাবার্তা লিখে তাতে ছাত্রীর স্বাক্ষর নেয় ছোবহানী।

তবে কয়েকজনকে সাক্ষী বানিয়ে ডায়েরীর পাতায় তাদের সাক্ষর নিয়ে ছাত্রীকে বিয়ে করার কথা দাবী করেন মাওলানা ছোবহানী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার মো. আশরাফুর রহমান, সদর উপজেলার হাবলাউচ্চ গ্রামের মো. কেফায়েত উল্লাহ ও আশুগঞ্জ যাত্রাপুর গ্রামের মো. আবুল বাশার আইয়ুবী সেই কথিত বিয়ের সাক্ষী ও উকিল। মামলায় এই ৩ উকিল-সাক্ষী এবং ঘটনা ধামা চাপা দিতে তৎপর মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানীর পিতা আব্দুল ছোবহানকেও আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী জানান, মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী একাধিক স্ত্রী ও সন্তানাদি রয়েছে। এই ঘটনায় ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর