লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে রিয়াজ হোসেন নামের এক নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে ও ঘাড় ভেঙ্গে হত্যা করেছে তার সহপাঠিরা। এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত দ্বিতীয় আসামীকে গ্রেফতার করলেও মামলার প্রধান আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি। নিহত রিয়াজ উপজেলা পৌর শহরের সোনাপুর গ্রামের কলিমউল্যা আঠিয়ার ছেলে।
হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে রামগঞ্জ শহর পুলিশ বক্সের সামনে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। এদিকে থানায় মামলা করায় হত্যাকারী হৃদয়ের মা কাজল বাদী ও নিহতের স্বজনদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা।
নিহত নির্মাণ শ্রমিক রিয়াজের স্বজনরা জানান, একই বাড়ির হৃদয় ও অপর নির্মাণ শ্রমিক পাভেল গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় রিয়াজকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পাশের নির্মানাধীন বাড়ীর ছাদে নিয়ে মূখে কাপড় ঢুকিয়ে মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় ঘরে দিয়ে যায়। পরে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞান থেকেই রিয়াজ মারা যায়। স্বজনদের দাবী হৃদয়ের মা কাজল ইয়াবা, গাঁজা ও দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। নিহত রিয়াজ তাদের কু-কর্ম সম্পর্কে জাানে তাই রিয়াজ পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় নিহতের বড়ভাই সাদ্দাম বাদী হয়ে হৃদয় ও পাভেলকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, রিয়াজ হত্যাকান্ডে জড়িত মামলার ২য় আসামী পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামী হৃদয়কে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
বার্তাবাজার/এমকে