ভারতের বিমানবাহিনী থেকে গত ১০ বছরে ৭৯৮ জন পাইলট চাকরি ছেড়েছেন বলে দেশটির একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে সংঘাতপূর্ণ সময়ে এমন তথ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য। তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই)-এর মাধ্যমে এই তথ্য জানতে চেয়েছিল দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম।
বর্তমান হিসাবে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮০ জন পাইলট চাকরি ছেড়েছেন দেশটির বিমানবাহিনী থেকে। তবে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেই যথাক্রমে ১০০ ও ১১৪ জন পদত্যাগ করেন আধুনিকায়নের পথে হাটা এই বাহিনীটি থেকে। এই দশ বছরের মাঝে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ৩৭ জন পাইলট চাকরি ছাড়েন।
২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, তাদের বিমানবাহিনীতে এখনও পাইলতের ঘাটতি রয়েছে। ৪ হাজার ২৩১টি পদের বিপরীতে তখন পাইলট ছিল ৩ হাজার ৮৫৫ জন। যার ফলে ঘটতি ছিল ৩৭৬ জন। এরপরের দুই বছর (২০১৮ ও ২০১৯) যথাক্রমে ৯০ ও ৯১ জন পাইলত অবসরে যাওয়ার বয়স পুর্ন হওয়ার আগেই জমা দিয়ে দেন তাদের বাহিনী থেকে ইস্তফার কাগজপত্র।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে দেশ্তীর ৩২ শতাংশ পাইলটই পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্ট। ২৫ শতাংশ জানান, তাদের চেয়ে সাধারন মানুষের জীবনযাপন অনেক ভাল। ঘন ঘন বদলীর কারণে ১৯ শতাংশ পাইলট তুষ্ট ছিলেন না। ১৭ শতাংশ জানান এইখানে তাদের ক্যারিয়ারে উন্নতির তেমন লক্ষন না থাকার কথা। ৭ শতাংশ অখুশী ছিলেন বেতনভাতা নিয়ে।
বিমানবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, কয়েক বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাইলটরা মাসে প্রায় ২ লক্ষ রুপি বেতন পান। কিন্তু বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিলে, তার চেয়ে চার গুণ বেশি বেতন মেলে। তাই বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে অনেকেই বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দেন। আবার ২০ বছর চাকরি করলেই, পেনশন পাওয়া যায়। তাই বিমানবাহিনীতে ২০ বছর কাটিয়ে ফের অন্যত্র কাজে যোগ দেয়ার ঘটনাও রয়েছে। খবর- আনন্দবাজার পত্রিকা।
বার্তাবাজার/এসজে