মাদারীপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের পর ইউপি চেয়ারম্যান সালিশ ডেকে বিচার করেন। ধর্ষণের শাস্তি মাত্র ১৫ বার জুতাপেটা। নির্যাতিতার পরিবারকে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতেও নিরুৎসাহিত করেন। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে নির্যাতিতার পরিবার। তবে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এ ঘটনাটি মাদারীপুর সদরের পাঁচখোলা ইউনিয়নে ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে পাঁচখোলা ইউনিয়নের এক কিশোরীকে পাশের বাড়ির ভ্যানচালক মামুন বাড়ি থেকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় । পরে এই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। কিশোরীর চিৎকারের আশপাশের লোকজন আসলে পালিয়ে যায় মামুন। বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বরদের জানালে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গত বুধবার মীমাংসায় বসে উভয়পক্ষ।
ধর্ষনের বিচারে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অভিযুক্ত মামুনকে ১৫ বার জুতা দিয়ে মারেন। পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারকে মামলা করতে নিষেধ করে দেন। এ ঘটনার পর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে ওই কিশোরীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
ধর্ষণের ঘটনার পর স্থানীয় মাতব্বররা কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি না হতে পরামর্শ দেয়।
মানবাধিকার কর্মী সুবল বিশ্বাস বলেন, স্থানীয়ভাবে কোনোভাবেই এটার মীমাংসা করা সম্ভব নয়। বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ জানিয়ে বিচার দাবি করেন মানবাধিকার কর্মীরা।
জেলার পুলিশ সুপার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এটা ধর্ষন, মামলা যোগ্য অপরাধ, এটা স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে পাঁচখোলা ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান আকতার হাওলাদারের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। আর একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বার্তা বাজার কে.কে