হেরা গুহায় নবী করিম (সাঃ) এর উপর সর্বপ্রথম যে ওহী নাযিল হয়েছিল তা হচ্ছে,”পড় তোমার প্রতিপালকের নামে,যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন।সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিন্ড থেকে।’ (সূরা আলাকঃ১-২)
সক্রেটিস এর ভাষায় “শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ”। এরিস্টটল বলেন ” সুস্থ্য দেহে সুস্থ্য মন তৈরী করাই হচ্ছে শিক্ষা”। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় “শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করেনা তা বিশ্বসত্ত্বার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে”।
দেশে প্রতিবছর এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পরীক্ষায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী সময়ে এদের মধ্যথেকে কেউ ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার কেউবা আবার বিসিএস প্রাপ্ত হয়ে সরকারের বড় বড় পদে আসীন হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয় যে, এই শিক্ষিত মানুষগুলা কি সত্যিই রবী ঠাকুর কিংবা এরিস্টটল’র উক্তিগুলো কি পড়েছিল,যদি পড়ে থাকে তাহলে কি বুঝেছিল,যদি বুঝে থাকে তাহলে কি সত্যিই মনে মনে ধারন করেছিল?
যদি সত্যিই মনে প্রানে বিশ্বাস করে বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাতে চাইতো তাহলে হয়ত বালিশ উঠানো বাবদ ৫০০০ হাজার টাকা, নারিকেল গাছ বাবদ ৬৮০০০০০ লক্ষ টাকা বিল করা সম্ভব হত না। এরা হচ্ছে লেবাসধারী শিক্ষিত, এদেরকে আমার শিক্ষিত বলতে লজ্জা হয়। আমি এমনটা কখনোই বলবনা যে দেশের সকল শিক্ষিতের আচরন এমন। এদের মাঝে আবার মাহাবুব কবীর কিংবা সোহেল তাজ এর মতো দেশবরেণ্য ব্যাক্তিরাও আছে। জামালপুরের ডিসি কিংবা কক্সবাজারে ওসি প্রদীপের ভীরে এদেরকে খুজে পাওয়া যায়না। তাই মাহাবুব এবং সোহেল তাজদের মত ব্যাক্তিদের অধম্য ইচ্ছা শক্তি থাকা স্বত্তেও দুর্নীতিবাজদের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কাউকে ওএসডি আবার কাওকে স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হয়।
একটা জাতির নৈতিক শিক্ষার কতটা অবক্ষয় হলে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া ব্যাক্তিরা দুর্নিতীর মিছিলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় ঝাপিয়ে পরে! নৈতিক শিক্ষা অবক্ষয়ের জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সরকারকেও এর দায়ভার নিতে হবে। পরিবারকে দায়ী করার পেছনে অন্যতম কারন হচ্ছে একান্নবর্তী পরিবার, বাবা-মা দুজনই কর্মজীবি হওয়ায় সন্তানকে সময় দিতে না পারা। সরকার দুর্নিতীবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যাকশন নিতে না পারা, সুনাগরিকের নীরব ভুমিকা পালন করা ইত্যাদি প্রধান কারন বলে আমার মনে হয়।
একটা জাতির উন্নতি সাধনে শিক্ষিত সমাজকে লিডিং রুল প্লে করতে হয় ঠিক তেমনি একটা জাতির পিছিয়ে পড়ার দায়ভার এই শিক্ষিত সমাজকেই নিতে হবে।যেখানে নৈতিক শিক্ষার বিন্দু পরিমাণ অস্তিত্ব নেই সেখানে ডিগ্রীধারী শিক্ষার কোন মুল্য নাই।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে হয়,নৈতিক শিক্ষা,ধর্মীয়,সামাজিক,পারিবারিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের জন্যই শিক্ষিত সমাজের একটা অংশ এবং দুর্নিতী একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।
যে সমাজের সামনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা তারাই যখন লুটেপুটে খাওয়ার তালে মগ্ন থাকে তখন এক বুক হতাশা ছাড়া সাধারণ মানুষের আর কিছু পাওয়ার থাকেনা।
লেখক- ব্যবসায়ী ও সাবেক প্রগতিশীল ছাত্রনেতা।
বার্তাবাজার/এসজে