বরিশালের বাকেরগঞ্জে এতিমদের ভুয়া তালিকা তৈরী করে সেই তালিকা দেখিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বেশ কিছু এতিমখানার নামে। নিয়মিত কর্তৃপক্ষের তালিকায় এইসব এতিমখানাকে ভুয়া বলে উল্লেখ করা হলেও বেশ কয়েক বছর যাবত তারা অর্থ আত্মসাত করেই যাচ্ছে।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে জানা যায়, উপজেলায় মোট নিবন্ধনকৃত উপজেলা আছে ১৯টি। নিয়মানুযায়ী তালিকাভুক্ত ও উপস্থিত প্রতি এতিম শিশুর জন্য ২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ হবে। সেই মোতাবেক ২০১৯/২০ অর্থবছরে ৩২০ জন এতিমের জন্য মোট বরাদ্দ হয় ৭৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে, বছরের পর বছর নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বিভিন্ন এতিমখানার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা এতিমের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমাজসেবা অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপে এই টাকাগুলো এতিমদের নামে বরাদ্দ হয়ে ঢুকে যাচ্ছে স্থানীয় কিছু দুর্নীতিবাজের পকেটে। ফলে প্রকৃত এতিমরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সেন্টু জানান, পাদ্রীশিবপুর মোহাম্মাদিয়া এতিমখানায় ৬০ জন এতিমের নাম দেখাচ্ছে। ওই এতিমখানায় ৫ জন এতিমও নেই। ভুয়া তালিকা দিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করছে কর্তৃপক্ষ। মির্জাগঞ্জ-বাকেরগঞ্জ সড়কের পাশে একটি এতিমখানার নামে ভুয়া তালিকা দিয়ে কীভাবে এত টাকা হাতিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ের কী কোনো দায়িত্ব নেই। একইভাবে চলছে উপজেলার পারশিবপুর সাতঘর এতিমখানা, মোহাম্মাদিয়া হামিদিয়া এতিমখানা, চরাদি নেছারিয়া এতিমখানা, হাসিনা চৌধুরী এতিমখানা, বাকেরগঞ্জ মোসলেম উদ্দিন এতিমখানা, পাটকাঠি নেছারিয়া এতিমখানা, নেছার মহল দারুস ছুন্নত এতিমখানা, দারুল আমিন এতিমখানা ও রোকন উদ্দিন ছালেহিয়া এতিমখানা। সরেজমিন গিয়ে একটি এতিমখানাতেও কোনো এতিম শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু তাহের দাবী করেন, করোনার পর থেকেই বেশির ভাগ এতিমখানায় এতিম শিক্ষার্থী নেই, তারপরও যেহেতু বরাদ্দ আসছে তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিতরণ করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধবী রায় জানান, সমাজসেবার নিয়মানুযায়ী বরাদ্দের টাকা বিতরণ করা উচিত।
বার্তাবাজার/এসজে