বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হত্যাকান্ডের দায় আওয়ামী লীগের উপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
বঙ্গবন্ধু হত্যার দায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের মুখ থেকে জাসদের বলে উল্লেখ করা হলেও, এবার দলটির প্রধান এই নেতা দাবী করলেন ভিন্ন কথা। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন হাসানুল হক ইনু।
তিনি জানান, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপরই বর্তায়। রাজনৈতিক কারণে জাসদ প্রকাশ্যে ওই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের আদর্শগত বিরোধিতা করলেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে দলটির কোনো দায় নেই। বরং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্য দলটি প্রতিবাদ দেখিয়েছে। যারা জাসদের দিকে আঙ্গুল তোলার চেষ্টা করে তারা মূলত আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাঁপটি মেরে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি, চক্রান্তাকরীদেরকে আড়াল করতে চায় ও বাঁচাতে চায়।’
হাসানুল হক ইনু দাবী করেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘদিন পরে দায়মুক্তির বিধান বাতিল করে প্রকাশ্য আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচারের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের কতিপয় স্নেহভাজন সামরিক অফিসার ঘটিয়েছে। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও পতনের দায় সরাসরি আওয়ামী লীগের ওপরই বর্তায়। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত, কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের ফসল হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে বর্ণচোরা পাকিস্তানপন্থী ও সাম্প্রদায়িক চক্র, ৭১-এ পরাজিত পাকিস্তান ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শক্তি এবং রাজকার-আলবদর গোষ্ঠীর উস্কানিতে এই দুষ্কর্ম সংগঠিত হয়। জাসদের দিকে এ নিয়ে আঙ্গুল তুলে লাভ নেই।’
‘জাসদ বিপ্লবে বিশ্বাস করে, অভ্যুত্থানে বিশ্বাস করে; বিপ্লব, অভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্র এক না উল্লেখ করে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাসদ চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সেজন্য বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার ভেতর তৎকালীন নিষিদ্ধ থাকা জাসদের নেতারা খুনি খন্দকার মোশতাক সরকারের সামরিক শাসনের বিরোধিতা করি। এছাড়া তার সামরিক শাসন উচ্ছেদ এবং তার পতনের জন্য আন্দোলনের সিদ্ধান্তও জাসদ নেয়।
তিনি আরও জানান, ‘জাসদ নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু সরকারের বিকল্প ও অবৈধ ক্ষমতা দখলের সামরিক শাসনকে বৈধ মনে করেনি। কোনো সামরিক সরকারকেই জাসদ বৈধ মনে করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। খন্দকার মোশতাক, জিয়া ও এরশাদের সামরিক সরকারগুলোর ধারবাহিক বিরোধিতা আমরা করেছি।’
সুত্র-সারাবাংলাডটনেট
বার্তাবাজার/এসজে