ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারীর মেয়াদকাল শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট)। একই দিনে নিয়োগপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহাও এদিন তার মেয়াদ পূর্ণ করবেন। পূণরায় নিয়োগ না পেলে এ পদ দুটি শূন্য হবে এবং তারা নিজ নিজ বিভাগে শিক্ষকের দায়িত্বে ফিরে যাবেন বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, পদ দুটিতে দায়িত্ব পেতে নিয়োগ প্রত্যাশীরা এরই মধ্যে তদবির শুরু করেছেন। অনেকেই নিজেদের মতো করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক আওয়ামী লীগ পন্থী শিক্ষক সরকারের বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীদের সান্নিধ্যও নিচ্ছেন। কেউবা আবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে পদের জন্য তদবিরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নিয়োগ প্রত্যাশীরা।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ আগষ্ট ১২ তম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী দায়িত্ব গ্রহন করেন। ইতিপূর্বে ১১ জন উপাচার্য নানা কারণে তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সে অনুযায়ী ইবির প্রথম কোনো উপাচার্য হিসেবে মেয়াদকাল পূর্ণ করবেন তিনি। একইদিনে দশম কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা চার বছরের জন্য নিয়োগ পান।
নিয়মানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ নতুন করে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের নাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত এ পদ দুটি শূন্য থাকবে। তবে সরকার চাইলে উপাচার্য পদে বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান রুটিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম আব্দুল লতিফ।
প্রসঙ্গত, পদ দুটিতে নিয়োগ পাচ্ছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নাম আলোচনায় এসেছে। পদের জন্য নাম শোনা গেলেও এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি কেউই।
এদিকে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আসনে পরবর্তীতে কে বসতে যাচ্ছেন? আচার্য পুণরায় কাকে নিয়োগ প্রদান করবেন? তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও হিসেব নিকাশ। মহামান্য আচার্য বর্তমান উপাচার্যকেই পুণরায় স্বপদে বহাল রেখে তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দিবেন নাকি নতুন করে উপাচার্য নিয়োগ দিবেন তা নিয়ে চলছে নানা ধরনের গুঞ্জন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, প্রগতিশীল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে এমন কাউকে এই পদে চান সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা বাজার / ডি.এস