করোনায় স্থবির খাগড়াছড়ির পর্যটন, বাড়ছে বেকারত্ব

বৈশ্বিক মহামারী করোনার আঘাতে প্রায় লন্ডভন্ড সমগ্র বিশ্বের নামকরা সকল পর্যটনখাত। করোনাকালে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি মানব সমাজে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম যে পর্যটন তা ভুলতে বসেছিল। সমগ্র বিশ্ব আস্তে আস্তে করোনার তান্ডব কাটিয়ে স্বরুপে ফিরতে শুরু করলেও বাংলাদেশ এখনও দাঁড়াতে পারেনি আগেরমত। দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ঘেড়া খাগড়াছড়ির অপার সৌন্দর্য্যে তাই পর্যটকরা মোহিত হলেও যেতে পারছে না। যার প্রভাবে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে কাজ করা শত শত মানুষের মাঝে হাহাকার করছে বেকারত্বের বেদনা।

করোনাকালে দেশে ছিল দীর্ঘ ৫ মাসের সাধারণ ছুটি। তখন খাগড়াছড়িতে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও যানবাহন মিলিয়ে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট্য লোকজন দাবী করছেন। একইসাথে কর্মহীন হয়েছে এইখাতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষাভাবে জড়িত অনেক মানুষ। এমনকি পর্যটকদের বহন করা পরিবহনের শ্রমিকরাও মানবেতর দিন যাপন করছেন কাজ না পেয়ে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, এই জেলা শহরটিতে ৩০টিরও বেশি হোটেল-মোটেল ছাড়াও সমগ্র জেলাতে ৫০টির মত হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির পর ১৮ মার্চ স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক বন্ধ হয়ে যায় তার সবগুলো। রেস্তোঁরা ও কটেজও বাদ যায়নি এই বন্ধ থাকার নির্দেশনা থেকে।

খাগড়াছড়িতে আলুটিলা, রিছাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক, মায়াবিনী লেক, তৈদুঝর্ণা, পানছড়ির অরণ্য কুঠির, দেবতা পুকুর এবং মানিকছড়ি রাজবাড়ি ছাড়াও নানা পর্যটন স্পট রয়েছে। বর্তমানে পর্যটকের অভাবে এই জায়গাগুলো খাঁ খাঁ করছে। স্থানগুলোতে প্রবেশপথে তালা ঝুলানো রয়েছে।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া জানান, হোটেল মালিকরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় তারা ব্যবসায়িকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কেবল খাগড়াছড়ির হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহন মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুব সম্প্রতি যে এই পর্যটনের দুয়ার আবারও উন্মোচিত হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনা। খাগড়াছড়ি সদরে ৩০টি হোটেলে অন্তত ১৮০ জন হোটেল বয় ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছে, যাদের অধিকাংশকেই বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খাগড়াছড়ি শহরের হোটেল গ্রিন স্টারপাহাড়ে ‘চাঁদের গাড়ি’ খ্যাত খোলা জিপ, পিকআপ গাড়িগুলোও চলছে না। রেস্তোরাঁগুলোতে আগের মত জমজমাট ব্যবসা নেই। এ কারণে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। রাঙ্গামাটির সাজেক ও খাগড়াছড়ির হোটেল, মোটেল, রিজোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও যানবাহনের সাথে জড়িত হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মালিকরা ক্ষতির মূখে পড়েছেন।

সাজেক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ ত্রিপুরা জানান, আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে। পুরোদমে পর্যটন চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হতো এই সাজেকেই। সাজেকে ১০০টি রিজোর্ট ও কটেজে প্রায় ৪০০ এর মতো শ্রমিক আছেন। তাদের অধিকাংশই এখন কর্মহীন জীবন কাটাচ্ছেন।

এছাড়া খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতি ও পার্বত্য জিপ মালিক সমিতির ৫০০ এর মতো গাড়িতে অন্তত এক হাজার শ্রমিক রয়েছেন, যারা এখন কর্মহীন। কেউ কেউ এটা সেটা করলেও অধিকাংশই কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।এই সময়ে যানবাহন খাতে জেলায় অন্তত ২০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খাগড়াছড়ির পর্যটন কখন খুলে দেওয়া হবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে।”

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর