বার্সা দলে নেইমার-মেসির রসায়নের কথা সবারই জানা। নেইমারকে ছেড়ে দেওয়ার পর ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে কাতালানরা। নেইমারের অভাব কৌতিনহোকে দিয়ে ঘুচানোর চিন্তা ছিল ব্লুগ্রানাদের। সেই চিন্তা থেকেই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারকে দলে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্লাবটি।
১২০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিভারপুল থেকে বার্সা ঢেরায় উড়িয়ে আনা হয় কৌতিনহোকে। ব্রাজিল এই তারকাকে কিনতে ইংলিশ জায়ান্টদের বাড়তি ৪০ মিলিয়ন ইউরোও পরিশোধ করতে হয়েছে বার্সার।
কৌতিনহোকে নিয়ে মেসির দলের প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী। কিন্তু চাওয়ার সাথে পাওয়া মেলেনি। লিভারপুল ছেড়ে বার্সায় আসার পর থেকে নিজেকে হারিয়ে খোঁজেন কৌতিনহো। টানা ব্যর্থতার জেরে একসময় তাকে ধারে বায়ার্নে পাঠিয়ে দেয় বার্সা। বাভারিয়ানরা তাকে নিতে সাড়ে ৮ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে।
কিন্তু সেখানে গিয়েও রাশি বদলালো না কৌতিনহোর। জার্মান চ্যাম্পিয়নদের মূল একাদশে নিয়মিত থাকলেও নিজেকে প্রমাণে ব্যর্থ হন কৌতিনহো। লিভারপুল থেকে যে দামে বার্সা কিনেছিল, একই দামে কৌতিনহোকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ ছিল বায়ার্নের হাতে। কিন্তু যার একাদশেই জায়গা হচ্ছে না, তাকে রেখেই কী লাভ! কৌতিনহোর তাই বার্সায় ফেরার সময় হয়ে গেছে।
যাকে নিয়ে এতো নাটকীয়তা ফের সেই কৌতিনহো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসলেন গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের আগে। বার্সা থেকে ধারে বায়ার্নে খেলছেন, নিজের ক্লাবের বিপক্ষেই ম্যাচ! আলোচনা তো হবেই!
সব আলোচনা-সমালোচনায় নতুন করে রং ছড়ালেন কৌতিনহো নিজেই। দুই ক্লাবে উপেক্ষিত এই তারকা শুক্রবার আলো ঝলমলে এক রাত উপহার দিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে। বলা যায় বার্সাকে নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ রীতিমত ছেলেখেলায় মাতলো, সেখানেও মূল একাদশে ছিলেন না কৌতিনহো। বরং শেষের দিকে মাত্র ১৫ মিনিট সময়েই যা দেখানোর দেখিয়ে দিলেন।
বার্সার সাথে ৮-২ ব্যবধানে জয় পায় বায়ার্ন। যেখানে করলেন শেষ দুই গোল করলেন কৌতিনহো , একটি গোল করালেন লেভানদোভস্কিকে দিয়ে। এরপর আর কি মুখে জবাব দেয়ার দরকার পড়ে!
কেএস/বার্তাবাজার