রাজধানী থেকে বহুদূরে মধুমতি নদীর তীর ঘেরা এক শান্ত শ্যামলগ্রাম টুঙ্গিপাড়া। জীবিত বঙ্গবন্ধু শেষ কবে এসেছিলেন তা কেউ বলতে না পারলেও গুলি বৃদ্ধ, রক্ত মাখা, ক্ষত-বিক্ষত নিথর দেহের বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন ১৬ই আগষ্ট। পুরো একটা দিন-একটা রাত তাঁর লাশ ফেলা রাখা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু ভবনে।
১৬ই আগষ্ট সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধুর মরদেহ এই কফিনে করেই হেলিকপ্টারে নেওয়া হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। রাখা হয় ডাকবাংলোর এই মাঠে।
টুঙ্গিপাড়ার মাঠ ঘাট দাপিয়ে বেড়ানো দূরন্ত ছেলেটির বেড়ে ওঠা যারা দেখেছে, শুনেছে বজ্রকন্ঠ, দেখেছে তার নেতৃত্ব। তাঁদের চোখের সামনেই শত্রুুর গুলিতে নিরব নিসতদ্ব তাদের প্রিয় মুজিব ভাই।.
বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন যিনি, দেখিয়েছেন সপ্ন সেই বঙ্গবন্ধুকেই শেষবারের মতো দেখার জন্য সেনাসদস্যরা কাউকে আসতে দেয়নি কাফিনের কাছে। মানুষের কাছে থেকে যিনি জিবনের বেশি সময় কাটিয়েছেন শেষ মুহূর্তে তাঁকেই রাখা হয়েছিলো তাঁরই জনগনের কাছ থেকে সব চেয়ে দূরে।
বঙ্গবন্ধুর দাফনে অংশ নেওয়া ২৫/৩০ জনের অনেকেই এখন বেঁচে নেই। যারা আছেন তাঁদের এখনো তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় বঙ্গবন্ধুর রক্তে মাখা মলিন দেহের প্রতিচ্ছবি।
বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যা কান্ডের সৃতি নিয়ে এখনো যারা বেঁচে আছেন তারা শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যারই বিচারই চাননি বরং এ নৃশংসহত্যাকান্ড যেনো আর না ঘটে সে প্রার্থনা করে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থাপিত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে লাশ টুঙ্গিপাড়া দাফন করে ওরা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাদেও সেই সফল হয়নি। বঙ্গবন্ধু শ্রেষ্ট বাঙ্গালী হয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়া বাঙালি জাতির শ্রেষ্ট স্থানে পরিণত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালির চেতনার চির অম্লান হয়ে রয়েছেন।
বার্তাবাজার/এমকে