প্রেমিকার সাথে কথা বলতে গিয়ে নির্যাতন ও মামলার শিকার যুবক

পুলিশ পাহারায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন ১৮ বছরের যুবক রাকিব হোসেন । তার সাথে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে মা রোকেয়া বেগম বললেন আমার ছেলেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক মারধর করেছে বজলার রহমান ও তার পরিবারের লোকেরা। ছেলের অপরাধ শুধু বজলার রহমানের মেয়ের সাথে রাস্তায় কথা বলেছিল।

ভুক্তভোগী রাকিব বলেন, আমি শুধু কথা বলেছি ঐ মেয়েটির সাথে। তার বাবা রাস্তায় কথা বলতে আমাদের দুজনকে একসাথে দেখে ফেলে। তারপর মেয়েটির বাবা আমাকে বাসায় যেতে বললে সরল বিশ্বাসে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু সেখানে একটি ঘরে বন্দি করে গাছের ডাল দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার হাত ও পা ভেঙ্গে দিয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর পানি খেতে চেয়েছিলাম কিন্তু এক গ্লাস পানি আমাকে খেতে দেয়নি। আমার হাত ও পা দিয়ে রক্ত ঝরেছে। আর আমি চিৎকার করেছি কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। হাসপাতালে এসে শুনেছি শুধু কথা বলার অপরাধে আমার নামে অপহরণ মামলা হয়েছে। আমি তো মেয়েটির বাসার পাশে কথা বলেছিলাম।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মাটিগাড়া গ্রামে ঘটে। রং নাম্বারে পরিচয় হওয়া এক কিশোরীর সাথে প্রথম সাক্ষাতে দেখা করতে গিয়ে কিশোরীর বাবার নির্যাতনে এখন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে কাতরাচ্ছে এক যুবক। আর ওই কিশোরীর বাবার অপহরণ মামলার আসামী হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সেখানে রয়েছে পুলিশ পাহারা। নির্যাতনে আহত ওই যুবক চাঁদপুর জেলার পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মানের কাজ করে।

বুধবার রাতে কিশোরীর পরিবার তাকে মারধর এর পর পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আহত অবস্থায় রাকিব হোসেনকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসাপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

এদিকে বুধবার রাতেই পঞ্চগড় সদর থানায় কিশোরীর বাবা বজলার রহমান বাদী হয়ে রাকিব হোসেনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে রাকিব হোসেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেলে গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামের আইবুল হকের ছেলে রাকিব হোসেন (১৮) পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মাটিগাড়া গ্রামে আসে। সেখানে ওই গ্রামের বজলার রহমানের ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী মেয়েকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরীর পরিবার বাড়িতে আনার পর কিশোরীর বাবা ওই ছেলেকে মারধরও করে। রাতে পঞ্চগড় থানায় বিষয়টি জানালে থানা পুলিশ সেখান থেকে আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

রাকিবের পরিবার জানায় , রাকিব একেবারে সহজ সরল ও নির্দোষ। আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খবর পাই যে, রাকিবকে পঞ্চগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে এসে দেখি আমার ছেলের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। উল্টো তারাই অপহরণ মামলা করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আমার ছেলের নির্যাতনের বিচার চাই।

কিশোরীর বাবা রাকিব হোসেনকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার মেয়েকে মোবাইলে উত্যক্ত করেছিল রাকিব। এজন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে সামান্য মারধর করেছি। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। কেন অপহরণ মামলা দিয়েছেন প্রশ্ন করলে তিনি জানায় আসলে বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গিরাগাঁও ক্যাম্পের কাছে আমার মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিল এজন্যই মামলা দায়ের করেছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় সদর থানার উপ পরিদর্শক ফিরোজ বলেন, খবর পেয়ে আমরা সন্ধ্যার পর গড়িনাবাড়ি থেকে ওই ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। রাতেই মেয়ের বাবা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেল জানান, আহত অবস্থায় রাকিবকে মাটিগাড়া থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে বজলার রহমান বাদী হয়ে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেছে। এজন্য পুলিশ পাহারায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাকিব সুস্থ হলে আদালতে হাজির করানো হবে।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর