নান্দাইলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে ৭০ একর জমি পতিত

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে ‘সরকারি বনগ্রাম’ নামে ৭০ একর জমিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে আমন ধান রোপন করতে না পারায় তা পতিত রয়েছে। অথচ এর আশপাশের গ্রামগুলোর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে।

উক্ত বনগ্রাম এলাকার শতাধিক কৃষক নিজ/বর্গা/বন্ধকী জমিতে ধান চাষাবাদের পরিস্থিতি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই জলাবদ্ধতা কারনে কৃষক পরিবারগুলোতে আধার নেমে এসেছে। বর্তমানে তারা বহু কষ্টে দিনাতিপাত করছে। জমিতে চাষাবাদ করতে না পারলে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এমনই বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন বনগ্রাম এলাকার কৃষকরা।

সরজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, উক্ত জলাবদ্ধতার এলাকার পানি নিষ্কাশনের দুটি পথে মধ্যে একটি কালভার্ট ও একটি ব্রীজ ছিল। বর্তমানে একই এলাকার হাফিজ উদ্দিনের পুত্র সফির উদ্দিন চান মিয়া, সুরুজ মিয়া, আঃ কদ্দুসের পুত্র মিন্টু, রহিম উদ্দিনের পুত্র শফিকুল ইসলাম ও আহম্মদ আলীর পুত্র আঃ রশিদ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে নতুন বাড়ি-ঘর স্থাপনা করেছে।

এতে করে দুটি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় উক্ত ৭০ একর জমিতে কোন ধরনের চাষাবাদ করা যাচ্ছেনা। শুধু তাই নয় উক্ত জলাবদ্ধতার কারনে মজিদুল মিয়ার একমাত্র সহায় সম্বল নার্সারীতে (চারারোপন) পানি উঠায় তার লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে এবং রমজান মিয়া নামে আরেক ব্যাক্তির পোল্ট্রি ফার্মে পানি উঠে যাওয়ায় তিনিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

একই গ্রামের আব্দুর রাশিদ জানান, ১০ শতাংশ জমিটুকু তলিয়ে যাওয়া চাষাবাদ করতে পারছেন না, এটাই তার একমাত্র সহায় সম্বল ছিল। এছাড়া আরও কয়েকটি বাড়িতে পানি উঠে যাওয়া শিশু-কিশোররা পানিবাহিত সহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভূগতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর পক্ষে ফজলুল হক আকন্দ তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে উক্ত এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক আশরাফূল আলম জালাল জানান, এই জলাবদ্ধতা দূর না করলে কৃষকদের না খেয়ে মরতে হবে। দ্রুত এর ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করছি।

উক্ত জলাবদ্ধতায় ১৭ কাঠা জমির কৃষক মোসলেম উদ্দিন ও নূর নবী জানান, আমরা চাষাবাদ করে সংসার চালাই। এই জমিটুকুই আমাদের সহায় সম্বল। তাও আবার সৃষ্ট জলবদ্ধতায় এখন আমাদের পরিবার অনাহারে মরতে হবে। এ যেন দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা জানান, “জনস্বার্থে আমার জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশনে তো আমাদের বাধা দেওয়ার কিছুই নাই।’ এ বিষয়ে খারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে ফায়সালা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সরজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

বার্তাবাজার/এমকে</strong

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর