১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যশোরের চৌগাছা উপজেলার ‘মাংগীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। রেজিষ্টার্ড বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। ‘মাংগীরপাড়া’ শব্দটি নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অন্য বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা বিদ্রূপ করায় অনেকেই ভর্তি হতে চায় না এখানে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মাত্র ৬৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীও চান বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন হোক। বিদ্যালয়টি যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মাংগীরপাড়া গ্রামে অবস্থিত।
বিদ্যালয়ের নামের প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের নামটি বিব্রতকর। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাইকে প্রতিনিয়ত অস্বস্তিতে পড়তে হয়। যে কেউ নামটি শুনলে পাল্টা প্রশ্ন করেন এমন নাম হয় নাকি। বেশিরভাগ মানুষ বিদ্যালয়ের নাম শুনে হাসাহাসি করেন। কোমলমতি শিশুরাও প্রতিনিয়ত বিদ্রুপের শিকার হয়। অন্য বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতদের বিদ্রূপ করে। এতে কোমলমতি শিশুদের মন খারাপ হয়ে যায়। অনেকেই বিদ্যালয়ে পড়তে চায় না। এছাড়াও গ্রামে লোকসংখ্যা তুলনামূলক কম। সবমিলিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যাও কম। আমরা আছি বিপাকে।
মফিজুর রহমান আরও বলেন, তিন বছর দায়িত্ব পালন করছি। কয়েকবার বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও গ্রামের ৯০ শতাংশ মানুষ চায় নাম পরিবর্তন হোক। এই অস্বস্তি থেকেই সবাই মুক্তি চায়। মানুষের উপহাসের পাত্র আর কেউ হতে চায় না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবারও অবহিত করেছি, যাতে দ্রুত নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়।
শুধু মাংগীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, যশোর জেলায় আরও অনেক বিদ্যালয় রয়েছে, যার নাম শ্রুতিমধুর নয়। এমন প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তালিকা করতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তালিকা প্রস্তুত করবে।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, যশোরের ৮ উপজেলায় এক হাজার ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক জাতীয়করণকৃত। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে যাচাই বাছাই করে শ্রুতিমধুর নয় এমন বিদ্যালয়ের তালিকা করবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। এরপর জেলার চূড়ান্ত তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, মাংগীরপাড়া বিদ্যালয়ের বিষয়ে আমি অবহিত আছি। নাম পরিবর্তন করে শ্রুতিমধুর করা হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস