নান্দাইলে বাল্যবিবাহ রোধে ইউএনও এরশাদের অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা
বাল্যবিবাহ একটি অভিশাপ ও সামাজিক মারাত্মক সমস্যার কারণ। বাল্যবিবাহ বলতে একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে ও মেয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ বন্ধনকে বুঝায়।
এটি একটি সামাজিক প্রথা হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বৎসরের নীচে কোন মেয়ে অথবা ছেলেকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা যাবেনা। তবে মেয়েরাই বাল্যবিবাহের বেশী শিকার হয়। যে বয়সে খেলাধুলা ও পড়াশুনার মধ্যে নতুন স্বপ্ন দেখে শিশুরা, সেসময়েই পরিবার-পরিজন বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে-পড়ে লাগে।
এতে করে যেমন ভাঙ্গছে তাদের স্বপ্ন, তেমনি দেশ ও জাতি পড়ছে পিছিয়ে। এই সামাজিক প্রথা তথা অভিশাপ থেকে নান্দাইলকে মুক্ত করতে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন নবযোগদাকারী নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ উদ্দিন। তিনি গত ২৩শে জুলাই যোগদানের পর থেকেই অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে সোচ্চার হয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি বাল্যবিবাহ ভেঙ্গে দিয়েছেন। এসমস্ত বিয়ে অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ আয়োজনের অপরাধে কনের বাবা ও বরকে মুচলেকা, কারাদন্ড সহ বিভিন্ন ধরনের জরিমানা আদায় করেন। পাশাপাশি বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সকলকে অবগত করছেন।
জানা গেছে, তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মদক্ষতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ত্রিশাল উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করায় স্বীকৃতি হিসাবে দলগত শ্রেণীতে তিনি ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জনপ্রশাসন পদক লাভ করেন। তেমনি নান্দাইল উপজেলাকে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে বাল্যবিবাহের খবর পেয়েই উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘটনাস্থলে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
এছাড়া কোনো রকম দাওয়াত ছাড়াই এসব বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠানের উপস্থিত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার বদলে তা বন্ধ করে দিচ্ছেন তিনি। বিনা দাওয়াতে বিয়ে বাড়িতে তার উপস্থিতিতে বাড়ির কর্তারা প্রথমে খুশি না হয়ে নাখোশই হয় বেশি। তবে শেষমেষ ইউএনও’র কর্মতৎপরতা ও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত হয়ে উল্টো দুঃখ প্রকাশই করছেন অভিভাবকরা।
এছাড়া বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত যেকোন ধরনের সুপারিশ ব্যাতিরেকে ইউএনও’র এরকম কার্যক্রম তথা বাল্যবিবাহরোধে সহযোগীতা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল সহ নান্দাইলে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। শুধু তাই নয় ইউএনও’র এই উদ্দ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, দায় এবং দায়িত্বের তাড়না থেকেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। বাল্যবিবাহ বন্ধে সকলের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ঐক্যও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ মুক্ত নান্দাইল গড়তে বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিগণ সহ নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজীদেরকে খুবই সোচ্চার থাকতে হবে।
বার্তাবাজার/এমকে