ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত ভাসমান সেতু

ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের টিটা মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতুটি।

ভাসমান সেতুটি ইতিমধ্যেই দৃষ্টি কেড়েছে মানুষের। সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিনিয়ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ দূর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি পেশার হাজার হাজার মানুষ সেতু দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে ঈদের পর থেকে দর্শনার্থীদের চাপ আরও বহুগুণে বেড়েছে।

এমন কী অনেকে এখানে দল বেঁধে পিকনিক করতেও আসছেন। একইসাথে সেতুর দুই পাড়ে বসেছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান। ফলে সেতুটি ঘিরে অনেকের কর্মসংস্থানের পথও তৈরি হয়েছে। বেড়েছে দোকানপাট ও বেচাকেনা।

সেতুটি ঘুরে দেখতে দর্শনার্থীদের জন্য ১০ ও ২০ টাকা মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। সেতুর দুই পাড়ে ৫-৬ জন্য ব্যক্তি এই টিকিট বিক্রির কাজে ব্যস্ত। দিনে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টিকিট বিক্রি করে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করছেন সেতু নির্মাতা কমিটি।

টিটা ভাসমান সেতুতে ঘুরতে আসা অনেকের সঙ্গে কথা হয় মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজার ডট কমের।

মোটরসাইকেলে সেতু দেখতে নড়াইলের লোহাগড়া থেকে এসেছেন তিন বন্ধু। কথা হয় তাদের সঙ্গে। জানালেন, ফেসবুকে সেতুটি দেখে তারা এসেছেন। সেতু দেখে তাদের অনেক ভাল লাগছে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সাজেদুর রহমান। জানালেন সেতু দেখে তারা সবাই খুশি।

এমনি প্রতিদিনই প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ঘুরতে আসছেন হাজারও মানুষ। আবার অনেকে সেতু দেখতে এসে বাড়তি আনন্দ পেতে চড়ে বসছেন নৌকায়, ঘুরে দেখছেন নদী।

ছবি : বার্তা বাজার

নদীর পূর্ব পাড়ের মুদি দোকানদার নাজমুল খাঁন জানান, ‘সেতু তৈরী হওয়ার আগে দোকানে তেমন বেচাকেনা হতো না। তবে সেতু তৈরী হওয়ার পর বেচাকেনা অনেক বেড়েছে।’

এছাড়া নদীর দুই তীরে বাদাম, চটপটি, ফুচকা, ঝালমুড়ি ও চানাচুরসহ বেশ কয়েকটি দোকান বসেছে। সবার বেচাকেনা ভাল বলে জানান দোকানদাররা।

জনি শেখ নামে এক ফুচকাওয়ালা জানান, ‘ঈদের দিন থেকে এখানে দোকান দিয়েছি। বেচাকেনা খুবই ভালো।’

সেতুর পূর্বপাশে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা লিয়াকত আলী খাঁন। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, ‘ঈদের পরবর্তী সময় থেকে সেতুতে দর্শনার্থীদের ভীড় বেড়েছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ সেতু দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকরপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের চারপাশে মধুমতি নদী বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রামগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। ওই ৬ গ্রামে প্রায় ১২ হাজার লোকের বসবাস। বংশ পরমপরায় তাদের বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হতো। অনেক সময় বৈরী আবহাওয়ায় যাতায়াতের এ মাধ্যমটিও রুদ্ধ হয়ে যেত। এতে অনেক সময় মুমূর্ষ রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। এই আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে ওই এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে নির্মাণ করেছে ভাসমান সেতুটি। প্লাস্টিকের ব্যারেল আর স্টিলের পাত দিয়ে ভাসমান এ সেতুটি তৈরী করা হয়েছে। ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এ সেতুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৫২ টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ টন লোহা।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর