কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় সিংগেরডাবরীর পুটিঁমারী গ্রামে যৌতুকের জন্য এক নববধূকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিযার্তিত ঐ নববধূ গত ১ সপ্তাহ ধরে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, গত শনিবার(৪ আগস্ট )নিযার্তিত ঐ নারী রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন, বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ্য হয়েছেন। সুস্থ্য হলেও শারীরিক ও মানুষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে জানান চিকিৎসকরা।
স্থানীয়সুত্রে জানা যায়,উপজেলার পুটিকাটা গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ(৫৫)এর কন্যা মোছাঃ হান্না আক্তার(১৯) এর সাথে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বিয়ে হয় একই গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম (৫৯)ছেলে শামছুজ্জোহা মাসুদ(২৩)এর সাথে।দুই বছরের প্রেমের সর্ম্পকের পরিনয় হিসেবে পারিবারিক মধ্যস্থতায় তাদের বিয়ে হয়। বৈবাহিক সর্ম্পকের পূর্ণ আস্থা স্থাপনে ছেলে পক্ষ মোহরানা নির্ধারণ করে প্রায় সাত লক্ষ টাকা।
বিয়ের পর নবদম্পতি হান্না আক্তারের বাবার বাড়িতে অবস্থান করলেও পড়ে মাসুদ কৌশলে তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়ীতে আসে। তারপর সেখানে শুরু হয় নানা বাহনায় অমানুষিক নির্যাতন।প্রথমে মাসুদ যৌতুক বাবদ ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে শারীরিক নির্যাতন শুরু করলে ও পরে সেই নির্যাতনে যোগ দেয় মাসুদের বাবা, মা ও বোন। কিছু দিন মুখ বুঝে সহ্য করে হান্না।কিন্তু ক্রমাণ্বয়ে নেমে আসতে থাকে নির্যাতনের খড়গ।
এর কয়েকদিন পর ডাক পিয়নের মাধ্যমে দুই দফা চিঠি আসে নববধু হান্নার নামে।জানতে পারেন সেটি তালাক নামা। পরে তা নিতে অপরগতা জানালে পিয়ন ফিরে যায় ।তবে এতে প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয় তার শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদসহ স্বামী মাসুদও।এরই প্রেক্ষিতে গত ১লা আগস্ট নববধূ হান্নাকে বাড়িতে নিয়ে হান্না্র উপর পরিবারের সকলে মিলে বেধরক মারধর ও মধ্যযোগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। বের করে দেয়া হয় বাড়ী থেকে।উপায়ান্তর না পেয়ে বাড়ীর বাইরে অবস্থান নিয়ে ৯৯৯ এ ফোন করে আইনি সহায়তা চান তিনি। পরে পুলিশ এসে তাকে পুনরায় শ্বশুর বাড়ীতে রেখে চলে গেলে যায়। পরে আবারো শুরু হয় নির্যাতন ।এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে হান্না আক্তার। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ছুটে আসেন সেখানকার নারীনেত্রী ও জনপ্রতিনিধি ফাতেমা বেগম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে শনিবারর (৪আগস্ট ) ভর্তি করান রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
নির্যাতিত নববধূ মোছাঃ হান্না আক্তার বার্তা বাজারকে জানান,”আমরা প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করি। বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় যৌতুকের জন্য স্বামীর দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় জোর করে তালাক নামায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন তার উপর ।”
নববধূর মা মোছাঃ মরিয়ম বেগম বলেন,”আমার মেয়ের উপর যৌতুকের জন্য যেভাবে নির্যাতন করেছে, আমরা এর সঠিক বিচার চাই, আমাদের এখনো হুমকি ধামকি দিচ্ছে, আমরা অনেক আতংকে রয়েছি।
“নববধূ মরিয়ম আরো জানান,”শ্বশুর পরিবারের নির্যাতন থেকে মুক্তি ও স্বাভাবিক ভাবে সংসার করতে চান তিনি। এজন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।” এবিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মোঃ শামছুজ্জোহা মাসুদ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আরেক অভিযুক্ত নববধূর ননদ মোছাঃ নাসরিন এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তেনারা জানান,থানায় এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাননি, অভিযোগ পেলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বার্তাবাজার/এমকে