কোরবানির ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী ট্রেনে স্বাস্থ্য বিধি ও নিয়ম না মেনেই বিনা টিকেটে ছুটি কাটিয়ে ফিরতি যাত্রায় ট্রেনে যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী।
শনিবার (০৮ আগস্ট) রেলওয়ের বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী উক্ত অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এবং তা বাস্তবায়নে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও জেলা রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলেও নানান জায়গা হতে কোনরূপ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ট্রেনে চড়েছে টিকেট বিহীন যাত্রীরা। কর্তৃপক্ষের সৃষ্ট কড়া পাহাড়ার পরও টিকেট বিহীন বেশিরভাগ যাত্রী মূল স্টেশন এলাকার বাইরে কিংবা মাঝ পথেই উঠছে ট্রেনে।
তবে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এবং ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বরাবরের মত কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বিধি ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে চালু রয়েছে প্রচার প্রচারণা। কিন্তু বিনা টিকেটে ট্রেনে চড়ে অন্যান্য অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে আসছেন অনেক যাত্রী। পক্ষান্তরে গুনছেন ভাড়া ও জরিমানা সহ বিভিন্ন শাস্তি।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ছেড়ে আসা পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার টাকা ভাড়া ও জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) সহায়তায় ২৬ জন বিনা টিকেটের যাত্রীকে চট্টগ্রাম স্টেশনে নামানো হয়।
এদিকে টিকেট নিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন চালুর সিদ্ধান্তের শুরুতে যেভাবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাত্রীরা যাতায়াত করেছিল। তা ঈদের ছুটিতে মানা হচ্ছেনা। অর্ধেক সংখ্যক টিকেট বিক্রি করা হলেও। বিভিন্ন জায়গা হতে যাত্রীরা বিনা টিকেটে ট্রেনে উঠানামা করছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা- চট্টগ্রাম রুটে চলছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলছে উদয়ন/পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই রুটগুলোতে ৩টি ট্রেনই সচল আছে। এই ৩ টি ট্রেন আগের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুসারে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করার কথা রয়েছে। সেই সাথে অনলাইনেই বিক্রি হচ্ছে শতভাগ টিকিট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুট গুলোতে চলাচলরত ৩ টি ট্রেনেই বেড়েছে টিকেট বিহীন ভ্রমনের প্রবণতা। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সুবর্ণ টিকিট বিহীন যাত্রী কিছুটা কম। তবে বেপোয়ারা হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলছে উদয়ন/পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কাঙ্খিত যাত্রীরা।
কিন্তু মানুষ বিভিন্ন উপায়ে টিকেট ছাড়াই কর্মসস্থলে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফিরতি পথে কর্তৃপক্ষের নিয়ম অমান্য করে ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রামে ফিরছে। এতে করে কোরবানি ঈদের পরবর্তী সময়ে টিকিট বিহীন ভ্রমণের প্রবণতা বেড়েছে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ে বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী বলেন, টিকিট বিহীন যাত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্ত বেশির ভাগই মাঝ পথে ট্রেনে উঠে পড়ছে। বিশেষত চাঁদপুর ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনে এমনটা হচ্ছে। এভাবে যারা আসছেন তাদের আমরা নামিয়ে জরিমানা সহ শাস্তির আওতায় এনেছি। তাছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন গুলোতে যেন এমন অনিয়ম না হয় সেই জন্য কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনাও দিয়েছি।
বার্তাবাজার/এমকে