মেজর সিনহা হত্যা: পুলিশের ভয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দেন দুই সাক্ষী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার পরপরই মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় তিনজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে সাক্ষীদের দুইজন জানিয়েছেন তারা ঘটনা চোখেও দেখেননি, কানেও শোনেননি। অথচ ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। তাদের দাবি, এক প্রকার ভয়েই পুলিশের কথা মতো সাদা কাগজে সই করে সাক্ষী হয়েছেন। সাংবাদিকদের এসব তথ্যই জানিয়েছেন এ দুই সাক্ষী।

পুলিশের দায়েরকৃত মামলার এজাহার মতে, সিনহা নিহতের ঘটনায় অস্ত্র ও ইয়াবার পৃথক দুইটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় লিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয় তিনজনকে সাক্ষী করা হয়। তারা হলেন টেকনাফের মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, মো আইয়াস ও মোহাম্মদ হামিদ।

মামলার এক নম্বর সাক্ষী নুরুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, সিনহা হত্যাকাণ্ড নিজের চোখে কিছুই দেখেননি তিনি। এছাড়াও ঘটনার অনেক পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুনতে পান। যে সময় শুনেছেন ওই সময় সিনহার কোনো আলামতও ঘটনাস্থলে ছিল না। আরেক সাক্ষী মারিশবুনিয়ার মো. আইয়াস সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নেয়া হয় আমিনসহ তাকে। পরের দিন সকালে টেকনাফ থানায় নিয়ে স্বাক্ষর করানো হয় সাদা কাগজে।

আইয়াস বলেন, আমি স্বেচ্ছায় সাক্ষী দিইনি। জোর করে অনেকগুলো কাগজে সই করাইছে পুলিশ। কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না।

উল্লেখ্য, গত ৩১শে আগস্ট (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় বুধবার কক্সবাজারে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকতসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। -মানবজমিন

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর