সিরাজদিখানে মসজিদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের মসজিদ তহবিলের টাকার হিসাব নিয়ে গরমিল করছে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি কমলাপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন (৫০)।
জানা যায়, গত এক যুগের ও বেশী সময় ধরে সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন। দীর্ঘ দিনের তহবিলের টাকা হিসাব না দিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। মসজিদের উন্নয়নের জন্য গ্রাম, এলাকা ও বিদেশের লোকজনের দানের অর্থের কোন হিসাব দিতে পারেননি। বর্তমানে তিনি তহবিলের টাকার হিসাবের কোন কাগজপত্র দিচ্ছেন না।
এলাকাবাসীর কাছে আরো জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে বর্তমান কমিটি ও গ্রামবাসী মসজিদের টাকার হিসাব চাইলে তিনি তেড়ে উঠেন। গ্রামের প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মুসল্লিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি জুমার দিনে গ্রামের উছৃঙ্খলদের নিয়ে মসজিদে হইহোল্লা করে গ্রামবাসীদের হিসাব না চাইতে চাপে রাখেন। জানা যায়, তিনি কোন চাকরি বা ব্যবসা করেন না।
কমলাপুর গ্রামের আব্দুল আলী জানান, মোসলেহ উদ্দিনের বাবা মসজিদের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলো। সে টাকা ফান্ডে জমা দেয়নি। এছাড়া গত ২৭ বছরে কত টাকা উঠাইছে তার হিসাব কাউকে দেয়নি।
মসজিদের মুসল্লি বাদল জানান, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোসলেহ উদ্দিন মাওলানাকে সময় দিয়েছি মসজিদের টাকার হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। যদি সময় মত হিসাব না দেয় তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৫০) জানান, তিনি ১৫ বছরের বেশি সেক্রেটারি ছিলেন। হিসাব চাইলেই দিয়ে দিবে। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি বাকরি করেন না তাই বলে কি মসজিদের টাকা খাবে? তার বাব-দাদার সম্পদ আছে সেটা দিয়ে বইসা খেতে পারবে।
মসজিদের মোতাওয়াল্লি হাফেজ মাওলানা আ. ওয়ালি বলেন, মাওলানা মোসলেহ উদ্দিনের কাছে আমরা কয়েকবছর ধরে হিসাব চাওয়ার পরও কোন হিসাব দিচ্ছে না। এব্যপারে আমরা দ্রুতই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন বলেন, আমার কাছে কোন হিসাব-কিতাব রাখিনি। আমার বাবা কোনো টাকা দেয়নি। অজুখানা করার কথা বলেছে। জায়গা সমস্য থাকার কারণে করতে পারিনি। পরে যখন করবে, তখন ওই টাকা দিয়ে দিবো
বার্তা বাজার / ডি.এস