নাম তাঁর সুলতান মাহমুদ। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের যেন শেষ নেই। তাদের অভিযোগ— বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গর্ভবতী ভাতা— এমন কোনো ভাতা নেই যেখান থেকে এই চেয়ারম্যান কমিশন নেন না৷
উপকারভোগীরা কার্ড করার জন্য কখনো ভাতার পুরো টাকা, কখনো অগ্রিম টাকা, কখনো বা ভাতারা টাকার একটি অংশ দিতে বাধ্য হন ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে ৷
ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা৷ টাকা না দিলে কার্ড করে দেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তার এলাকার ভোটাররা।
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গর্ভকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য কার্ড পাওয়ার আগে ও পরে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা না দিলে এই চেয়ারম্যান কার্ড বাতিল করার হুমকিও দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয় টাকা দেওয়ার বিষয়টি কাউকে জানালে তার হেনস্তার শিকার হতে হয় সাধারণ জনগণের।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর পূর্বে তিনি ৮ জনের কাছ থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হতদরিদ্র মহিলারা মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) সন্ধ্যার দিকে এনায়েতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে জানা যায়, এনায়েতপুর থানাধীন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হাজী সুলতান মাহমুদ তার নিকটতম লোকজনদের দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের অসহায়, দুস্থদের নিকট থেকে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে কারও কাছ থেকে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা করে আদায় করেছেন।
যারা টাকা দিতে পারেননি তাদের কপালে ভাতা বইয়ের কার্ড মেলেনি। এ জন্য ভাতার কার্ডের আশায় ৩ বছর আগে ১নং ওয়ার্ডের দ্বাদশপট্রি গ্রামের মৃত নুরু খার স্ত্রী মর্জিনা বেওয়া, স্বামী পরিত্যক্তা লিপি রানী, গোবিন্দ হালদারের স্ত্রী চায়না, দিনমুজুরি অঞ্চনা, আশরাফের স্ত্রী বাতাসি খাতুন, মৃত রেজাউল করিমের স্ত্রী আছিয়া, তারাভানু ও শাহানা খাতুন জনপ্রতি ৭ হাজার করে মোট ৫৬ হাজার টাকা সৈয়দপুরের আব্দুস ছামাদের মাধ্যমে সুলতান চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়।
টাকা দেয়ার পর চেয়ারম্যানের নিকট যোাগাযোগ করা হলে কার্ড করে দেই দিচ্ছি বলে দুস্থদের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি জমা নেন। এরপর থেকে কার্ড হবে হচ্ছে বলে কালক্ষেপন করেন তিনি। এভাবে ৩ বছর পার হলেও ওই মহিলাদের ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়নি। পরে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আছিয়া সহ দু একজন কিছু টাকা ফেরত পেলেও বাকি সবাই টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের গালমন্দ ও হুমকি ধামকী দেয়।
এ ঘটনায় এনায়েতপুর থানায় মঙ্গলবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে চেয়ারম্যানের পক্ষে বুধবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন ভুক্তভোগীদের নিকট এসে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এছাড়া দুস্থ মহিলাদের পাওনা অর্ধেক টাকা ২ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি ধামকি দেয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারী ভাতা প্রদানে টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই। যেহেতু বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অধীনে। এখন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে অভিযুক্ত জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনো ভাতার কার্ড করার জন্য কারো কাছে টাকা-পয়সা চাইনি।
বার্তা বাজার / ডি.এস