খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থী তপু মজুমদার ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া দাশ ভালোবাসায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেন। তাদের দু’জনের আত্মহত্যার মাঝে ব্যবধান মাত্র দেড় মাসের।
প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেন প্রেমিক। আর শোক সইতে না পেরে দেড় মাসের ব্যবধানে এবার আত্মহত্যা করলেন প্রেমিকা। তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পরিবার দুটিকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে স্বজন হারানোর বেদনা।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন কুয়েট শিক্ষার্থী তপু মজুমদার আত্মহত্যা করে এবং এর দেড় মাসের মাথায় গত ১লা আগষ্ট (শনিবার) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মনোহরদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুপ্রিয়া দাশ।
এমন ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ সেল গঠন করতে হবে।
সুপ্রিয়া দাসের সহপাঠী ও কাছের বন্ধুরা জানান, কুয়েটের শিক্ষার্থী তপু মজুমদারের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুপ্রিয়ার। দুজনের বাসা একই এলাকায়। উভয় পরিবার মেনে নিয়েছিল দুজনের সম্পর্ক। করোনার মধ্যেও সুপ্রিয়ার বাসায় এসেছিল তপু মজুমদার।
গত ১৪ জুন রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। কান্না করতে করতে সুপ্রিয়া ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় অনেক এসএমএস। তাৎক্ষণিক ফোন করে জানতে পারে তপু আত্মহত্যা করেছে। এরপরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুপ্রিয়া। তপুর আত্মহত্যার জন্য সামাজিকভাবে তাকে দোষারোপসহ নানান কটূক্তি করা হয়। সামাজিক ও মানসিক চাপেই সুপ্রিয়া আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন তার কাছের বন্ধুরা।
তপুর পরিবারের সদস্যরা বলেন, দুজনের সম্পর্কের কথা উভয় পরিবারই জানত। এই সম্পর্কে কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। তারা মেনে নিয়েছিলেন তাদের সম্পর্ক। হঠাৎ করে তপুর সঙ্গে সুপ্রিয়ার একটু মান-অভিমান হয়। মান-অভিমানের কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তপু। বড় অভিমানী ছিলেন তপু।
সুপ্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, তপুর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুপ্রিয়া। বাড়িতে থাকা অবস্থায় সবাই সুপ্রিয়াকে চোখে চোখে রাখতেন। তপুর মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ায় সবাই ভেবেছিল সুপ্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে গেছেন। ঘটনার দিন সবাই বাড়ির বাইরে গেলে সুপ্রিয়া ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে দড়ি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেন। তপুর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরেই সুপ্রিয়া আত্মহত্যা করেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি