কক্সবাজারের টেকনাফের সদর ইউনিয়নের এক ইউপি মেম্বারের সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে অস্থিত্ব সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পথে মোহাম্মদীয়া কাশেমুল উলুম হেফজ ও এতিম খানা নামক ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টানের। বিরোধের সূত্র ধরে প্রতিষ্টানটির সম্মুখে অবস্থিত নিজ জমিতে প্রাচীর তুলে মাদ্রাসার প্রধান ফটকের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি বেআইনী ভাবে তার মালিকানাধীন জমির উপর গেইট নির্মানের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির গুটি কয়েক সদস্যদের বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় অবস্থিত মোহাম্মদীয়া কাশেমুল উলুম হেফজ ও এতিম খানা। বিগত ১৯৬৭ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্টিত হয়। পরে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্টানটি আব্দুল জাব্বার, দলিলুর রহমান, হাজী মতিউর রহমান ও আবদুল ছোবহানসহ অনেকের খাস দখলকৃত জমি মৌখিক ও স্ট্যাম্প মুলে ওয়াকফাহকৃত জমির উপর স্থায়ী ভাবে অবকাঠামো নির্মান করে। পরবর্তীতে প্রায় ৩ একর জায়গায় শিক্ষা ভবন, বাগান, খেলার মাঠ ও মসজিদ নির্মাণে তৎকালীন স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের সহযোগীতায় মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী পরিত্যাক্ত খাস জমির উপর পুকুর খনন করে ১৯৮১ সনে ডাক্তার গনি হতে ৩০ শতকের একটি রেজিঃ দলিল করে তার উপর পুনঃ অবকাঠামো করা হয়েছিল যার উপর বর্তমানে ২টি দ্বিতল ভবন রয়েছে। খননকৃত পুকুরটি এলাকাবাসির সহযোগিতায় ভরাট করে একটি স্থায়ী মঞ্চ নির্মান করে মাদ্রাসার প্রয়োজনে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। উক্ত মাঠে বিভিন্ন সময় মাদ্রাসায় বার্ষিক সভা, সেমিনার ও এলাকার লোকজনের জানাজা পড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া মাদ্রাসার সামনের মাঠটি স্থায়ী ভাবে মাদ্রাসার নামে বন্দবস্ত পেতে চলতি বছর জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনের পর থেকে জমিটির উপর এলাকার বর্তমান ইউপি সদস্যের কুনজর পড়ে। জমিটি খাস খতিয়ান ভূক্ত নয় দাবী করে নিজের প্রভাব বিস্তার করে মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী তার যেসব জমি রয়েছে মাঠটি সে সব জমির অংশ বিশেষ বলে সত্ত্ব দাবী করে। পরবর্তীতে জমিটি দখলে নিতে না পেরে গত কিছুদিন আগে উক্ত জমি থেকে জোর পূর্বক মাটি কাটা শুরু করে। এসব কর্মকান্ডে এলাবাসী বাঁধা দিতে আসলে উল্টো মিথ্যে মামলায় আসামী করবে ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ভয় দেখিয়ে এলাকার প্রভাব বিস্তার শুরু করে। বিষয়টি সমাধানের জন্য মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি ঈদের পরে তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এদিকে চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেয়ার বিষয়টি জানার পর মাদ্রাসার সম্মুখে অবস্থিত তার মালিকানাধীন জমি সংলগ্ন মাদ্রাসার যাতায়াতের প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রাচীরের কাজ শুরু করলে এলাকাবাসীর চাপের মুখে তা অনেক্টা বন্ধ করেদিতে বাধ্য হয়।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি সূত্র আরো জানায়, বিগত সময়েও এই ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে দীর্ঘদিন সভাপতির পদটিও আকড়ে রাখেন, এবং অত্র মাদ্রাসার দলিল ও খতিয়ান ভূক্ত কৃষি জমি হতে ৭০ শতক জমি দখল করে অাত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এবং বিগত সময়ে মাদ্রাসার সাবেক পরিচালকরা অভিযুক্ত ব্যক্তি সভাপতি থাকাকালীন তার ক্ষমতার অপব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে মাদ্রাসা পরিচালকের পদ অব্যহতি নিয়ে চলে গেছেন।
এবিষয়ে জানতে সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ছৈয়দের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বার্তা বাজারকে জানান, বাদী বিবাদী উভয় পক্ষ জমির কাগজ পত্র জমা দিয়েছে। ঈদের পর স্থানীয় ভাবে বসে কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে চলমান সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করে দেয়া হবে।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের দাবী, আমি ১৯৮১ সালে আমি মাদ্রাসাকে ৩০ শতক জমি দান করেছি। এখনো মাদ্রাসার অভ্যান্তরে আমার ৩২ শতক জমি রয়েগেছে। মাদ্রাসার সামনে যে জায়গাটি মাদ্রাসা মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে এটি কোন খাস জমি নয়। এখানে আমার এবং বিভিন্ন জনের খতিয়ান ভূক্ত জমি রয়েছে। যার বৈধ খতিয়ান আমার কাছে আংরক্ষিত আছে। মাঠে শুধু মাত্র খাস জমি রয়েছে ৩ শতক। এই মাঠে আমি আমার জমির কিছু অংশ মাদ্রাসার মাহফিল কমিটিকে প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা মূল্যে ভাড়া দিয়েছি। আমার খতিয়ান ভূক্ত জমি থেকেই আমি বালু বিক্রি করেছি। ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত রেশারেশীর সূত্র ধরে মাদ্রাসাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বার্তাবাজার/নিমফুল