কক্সবাজারের টেকনাফে বাহারছড়া ইউনিয়নে মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে মেজর (অবঃ) সিনহা মাহমুদ রাশেদ খান নামের এক অবসর প্রাপ্ত মেজর হত্যার ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এঘটনায় জেলা পুলিশের বক্তব্যের বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে আইএসপিআর।
গতরাত (৩১জুলাই) কক্সবাজার টেকনাফ উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
জেলা পুলিশের দাবী, নিহত সিনহা ৩১ জুলাই রাত ৮টার দিকে টেকনাফ থেকে মেরিনড্রাইভ সড়ক হয়ে কক্সবাজারের দিকে আসার পথে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পুলিশী চেক পোষ্টে গাড়িটি থামায়। এসময় গাড়ি চেক করতে চাইলে সিনহার সাথে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই লিয়াকতের সাথে তর্ক শুরু হয়। তর্কের এক পর্যায়ে সিনহা নিজের সাথে থাকা পিস্তল বের করলে আত্মরক্ষার্থে এসআই লিয়াকত তাকে গুলি চালায়। আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর গাড়ী তল্লাশী করে ইয়াবা ও গাজা পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায়, পুলিশের কাজে বাঁধা ও মাদক দ্রব্য আইনে টেকনাফ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হসপিটালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহীন আব্দুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর ২টায় লাশের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে পুলিশের বক্তব্যের বিরোধীতা করে ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন (আইএসপিআর)’র বক্তব্যটি বার্তা বাজারের হাতে এসেছে। তাদের দাবী, অবসর প্রাপ্ত মেজর সিনহা গত এক মাস যাবত ‘Just Go’ নামের একটি ট্রাভেল ভিডিও ডকুমেন্টারীর কাজে কক্সবাজার অবস্থান করছিলেন। গত শুক্রবার (৩১জুলাই) টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় শ্যুটিং শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে (ঢাকা মেট্রো গ- ২৮-০১৭৯) একটি প্রাইভেট কার যোগে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজার আসার পথে বিজিবি চেক পোষ্টে তল্লাশীর জন্য থামানো হয়। বিজিবি পরিচয় পেয়ে ছেড়ে দিলে গাড়ীটি বাহারছড়া পুলিশ চেক পোষ্টে পৌছায়। এসময় এসআই লিয়াকত পূর্বে থেকে ডাকাত বলে সংবাদ পেয়ে গাড়ীটি থামায় এবং কথা বার্তা বলে ছেড়ে দেয়। একটু পরে আবার পিস্তল থাক করে হাত উচু করে গাড়ী থেকে নামার জন্য বল্লে, মেজর (অবঃ) সিনহা দুই হাত উচু করে গাড়ী থেকে নেমে আসার সময় এসআই লিয়াকত তাকে গুলি করলে ঘটনা স্থলেই তিনি নিহত হন।
এদিকে রাত ১০টার দিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে এএসইউ,র সার্জেন্ট আইউব আলী ঘটনাস্থলে পৌছে জনতার সামনে ঘটনার পরবর্তী বিষয় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এসময় পুলিশ তার আইডি কার্ড ও মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়।
আইএসপিআর আরো দাবী করেন, হাত উচু করে এক জন ব্যক্তি গাড়ী থেকে নামার সময় তাকে গ্রেফতার না করে গুলি করে হত্যা করা এটা সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থী। তাছাড়া হত্যাকান্ডের পর পরই নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করার বিষয়টি ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে অপচেষ্টা বলে দাবী করা হয়েছে।
শনিবার (১আগষ্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহে এলিদ মাইনুল আমিন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি। অন্য দুই সদস্য হলেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মনোনীত একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের ভেতরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, কমিটি ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস অনুসন্ধান করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ইত্যাদি সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ পূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ মতামত দেবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি