মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪ সালের অপেক্ষাকৃত বড় বন্যার পর দীর্ঘ ১৬ বছর বন্যায় তেমন ক্ষতি করেনি ফসলের। এইবার বন্যায় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পানিতে ফসল তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। সেইসাথে সিংগাইরের দক্ষিণা লে (জামসা, চারিগ্রাম, চান্দহর) কালিগঙ্গা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন।
কৃষি নির্ভর এলাকা সিংগাইর প্লাবিত ও ফসলের ক্ষতিতে কৃষক হয়েছে কর্ম ও উপার্জনহীন। কৃষকসহ সাধারণ মানুষ হতাশার মধ্যে দিন যাপন করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার ২৫শ’ হেক্টর বোনা আমন, ৫০ হেক্টর আউশ আমন, ৭শ’ হেক্টর রোপা আমন , ৩শ’ ৫০ হেক্টর পেঁপে, ৫শ’ হেক্টর বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজির মধ্যে পেঁপে, লাউ, লাউ শাক, কুমড়া, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, ডেরস, পটল, শশাসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকের মাঝে উৎকন্ঠা আর হতাশা চেপে ধরেছে। এসব সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, বন্যা পরবর্তী সরকারের যে কৃষি প্রণোদনা আছে ইউনিয়ন পরিষদের অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা করবো এবং দীর্ঘমেয়াদি ফসলের পরামর্শ দিবো।
অপরদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই উপজেলার দক্ষিণা লে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। জামসা ইউনিয়নের বালুচর, চারিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চারিগ্রাম ও বড়াটিয়া বাজার এলাকা, চান্দহর ইউনিয়নের বার্তা গ্রামে কালিগঙ্গা নদীর ভাঙনে কৃষিজমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার হয়েছে নিঃস্ব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় শুষ্ক মৌসুমে বালু খেকোদের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত হয় নদীর তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ।
জামসা ইউনিয়নের মোঃ রুহুল আমিন বলেন, বালুচর গ্রামে ভাঙনে কৃষি জমি ও কতগুলো ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। চারিগ্রাম- বড়াটিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ চ ল বলেন, বাজার এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটার ভাঙনের কবলে পড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একাধিক বসতভিটার ঘর, সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমি, ঘর হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে, কেউ অন্যের বাড়িতে পরিবার নিয়ে কোন রকম বেচে আছে। বার্তা গ্রামের ভাঙ্গনরোধে ৩-৪ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেললেও তা ছিলো অপ্রতুল। ওই এলাকায় স্থায়ী ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করতে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এলকাবাসী।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কালাম নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অবগত করেছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান ও স্থানীয় চেয়ারম্যান ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি