দেশে চলমান করোনা সংকট পরিস্থিতিতে যাদের কথা কেউ ভাবেনি, কর্মহীন ওই লোকগুলোর বোবা কান্না চারদেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। তাদের অভাব, ক্ষুধা, কষ্টের কথা বলতে পারেনি কাউকে, লজ্জায় হাত পাততে পারেনি কারো কাছে, রাতের আঁধারে তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. আশিকুর রহমান (আশিক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রায় শতাধিক পরিবারের মাঝে নিজস্ব অর্থায়নে ঈদের বিশেষ খাদ্য সামগ্রী পোঁছে দেন যুবলীগের এই নেতা। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুই প্রকার সেমাই, চিনি ও গুঁড়াদুধ।
যুবলীগ নেতা আশিক রাজধানীর ঢাকার কাঁঠালবাগান এলাকায় বসবাস করলেও তার পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরুনা গ্রামে। তাই তিনি নাড়ির টানে ছুটে আসেন আলফাডাঙ্গায়। বৈশ্বিক এই মহামারিতে নিজের এলাকার মানুষের দুঃখের অংশিদার হতে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান। তাঁর হাতকে প্রসারিত করেন অসহায় পরিবারগুলোর দিকে।
জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মো. আশিকুর রহমান (আশিক) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে দেশে করোনা থাবা হানার পর থেকেই কর্মহীন, অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য শুরু থেকেই নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করে যাচ্ছি। কিছুদিন আগে আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত ছিলাম। সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। জীবনের এই কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে নিজেকে আরও বেশী মানবসেবায় নিয়োজিত করেছি।
আশিক বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও তীব্র সংকট সৃষ্টি করেছে। এ সংকট উত্তরণে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার পক্ষে মানবিক কল্যাণে অসহায়, কর্মহীন মানুষ বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত দিনাতিপাত কষ্ট করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রীর বিতরণ করে যাচ্ছি। আর একটি দিন পরেই আসছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। তবে করোনাকালের ২য় এ ঈদ হচ্ছে অন্যরকম পরিবেশে। তাই আমার সাধ্যমতো দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি ঈদ উপহার নিয়ে যাতে করে ঈদের দিন হলেও তারা মিষ্টিমুখ করতে পারে। যাদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তারা অধিকাংশ দিনমজুর পরিবারের। সহায়তা গ্রহণকারীরা যাতে সংকোচ বোধ না করেন, সে জন্য সেগুলো দেওয়া হয়েছে রাতের আঁধারে।
উল্লেখ্য, দেশে করোনা সংকটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রায় আটশো পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন এই যুবলীগ নেতা। তার এ সহযোগিতা কার্যক্রম করোনাকালীন সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি