নীরব কামার পট্টির কোলাহল, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

পঞ্চগড়ের পৌর এলাকার কাঁচা বাজার আড়ৎ সংলগ্ন কামার পট্টিতে কাছে এলেই বাতাসে ভেসে আসতো ঠুকঠাক হাঁতুড়ির আওয়াজ, হাপরের বাতাসে দ্বগদ্বগ করে কয়লা জ্বলে নিমিষেই লোহাকে করতো গরম। আর সেই লোহাকে পিটিয়ে তৈরী হত নানান রকমের হাতিয়ার। সেইসাথে চলতো যন্ত্রপাতি শান দেয়ার কাজও।

বিক্রেতারা গরু জবাইয়ের ছুরি,বটি,দা,চাকু চাপাতি সহ নানান পণ্যর পসরা সাজিয়ে বসে থাকতো। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মত প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিয়ে যেত। সব কিছু যেন এখন থেমে গেছে। করোনা পরিস্থিতি সবই এলোমেলো করে দিয়েছে। ব্যবসায় পড়েছে ভাটা আর তাই লোহার যন্ত্রপাতি তৈরীর ধুমও যেন থেমে গেছে।

গত ঈদেও যেখানে ছিল বেশ সরব। ঠুকঠাক হাঁতুড়ির শব্দ,হাপরের বাতাসে লোহা টগবগে গরম হয়ে চলতে নানা রকম যন্ত্রপাতি তৈরী। কোলাহল আর ক্রেতা সমাগম লেগেই থাকতো। বেচা-কেনায় বিক্রেতারা ব্যাস্ত থাকতো। সে সব এ বছরে আর নেই। করোনায় বদলে গেছে জীবন যাত্রার মান। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে লেগে আছেন লোহার যন্ত্রপাতি তৈরীর কাজে। অল্প করে তৈরী করছেন লোহার যন্ত্রপাতি। তারপরেও নেই তেমন ক্রেতা সমাগম। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছেন ছুরি,চাপড়,চাকু,চাঁপাতি সহ নানান জিনিস নিয়ে। পুরনো যন্ত্রেই দিচ্ছেন শান। ক্রেতা সাধারণের আর তেমন দেখা নেই।

আজিজার রহমান নামে এক কর্মকার জানান,বাপ-দাদার পৈতৃক পেশা এটি। প্রতি ঈদে লোহার যন্ত্রপাতি তৈরীর ধুম লেগে থাকতো। বেচা-কেনা ভাল থাকায় লাভও ভালই হতো। সে সব এবার আর নেই। করোনার পাশাপাশি গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজের কারনে অনেক হয়তো কুরবানী দিচ্ছেন না। তাই হয়তো এমন বেচা-কেনার অবস্থা।

দোলোয়ার হোসেন ঝন্টু নামে এক লোহার যন্ত্রপাতি বিক্রেতা জানান, লোহার তৈরী গরু জবাইয়ের জন্য ছুরি,চাঁপাতি,চাপড়,চাকু,দা,বটি সহ ৪০ ধরনের যন্ত্রপাতি তিনি বিক্রি করতেন। তাতে প্রায় প্রতিদিন ৮-১০ হাজার টাকা বিক্রি হতো কিন্তু বর্তমানে ২-৩ হাজার টাকার যন্ত্রপাতি বিক্রি করা দুস্কর হয়ে পড়ছে তাদের। এভাবে বেচা-কেনা হলে সংসার চালাবো কেমনে।না খেয়ে তো আমাদের মরতে হবে।

প্রতিবারই কামারশালায় গরু জবাইয়ের ছুরি ৫০০-৭৫০ টাকা, হাড় কাটার চাপড় ৬০০-৭৫০ টাকা,চাপড় ৩০০-৪৫০, বটি ২৫০-৩৫০ টাকা,চাকু ৫০-১৫০ টাকা বিক্রি হতো। এবার একই দাম থাকলেও ক্রেতা সমাগম না থাকায় বিপাকে কর্মকারেরা। ফলে নতুন যন্ত্রপাতি তৈরী না করে পুরনো যন্ত্রপাতিতে শান দিচ্ছেন অনেকে। ব্যবসায় মন্দা অবস্থা দেখে হতাশ কামার পট্টির ব্যবসায়ীরা।

এহেন পরিস্থিতি চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে তাদের এমন কথাই জানালেন একজন কর্মকার। করোনা পরিস্থিতিতে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তা সহ প্রণোদনা চেয়েছেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর