টানা অতিমাত্রায় বৃষ্টির বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে সিরাজদিখানের ১৪ টি ইউনিয়ন মধ্যে কোলা ইউনিয়ন বেশি প্লাবিত হয়েছে। এতে ইউনিয়নটির ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়ন বাসী।
দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ। কাজের অভাবে আর্থিক অনটনে রয়েছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়নের প্রধান রাস্তা নন্দনকোনা চৌ-রাস্তা থেকে কোলা সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাটির উপরে পানি উঠে গিয়েছে। রাস্তার পাশে দোকানপাটের উপর পানি উঠার চিত্রও দেখা গিয়েছে। ইউনিয়নের নিচু রাস্তাগুলো সব এখন পানির নিচে। অধিকাংশ বাড়িতে বন্যার পানি উঠে গেছে। তাই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে অনেক আবাদ করা ফসল। বন্যার পানিতে ভেসে গিয়েছে পুকুরের মাছ। ছোট বড় মিলে প্রায় শ’খানেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
এই ইউনিয়নের দুটি হ্যাচারির বেশ কিছু পুকুর ভেসে যাওয়ায় ডিমের জন্য আনা মা মাছ ও ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক মৎস্য চাষি। প্লাবিত হয়েছে কোলা, রক্ষিতপাড়া, জিবসরা, গৌরিপুরা, পাড়াভুম, হাতরপাড়া, নন্দনকোনা, থৈরগাঁও, ছাতিয়ানতলী গ্রাম গুলোর অনেক অংশ। জানাযায় ইউনিয়নে ৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬ টি মাদ্রাসা ও ২৫টি মসজিদ রয়েছে। কিছু কিছু স্কুল মসজিদ ও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
কোলা গ্রামের আলমগীর মোল্লা বলেন, আমরা গত ১৫ দিন যাবত পানি বন্দি হয়ে পড়ে আছি। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না, বাজারে যেতে অসুবিধা। কিছুদিন আগে একটা বাশের সাকো দিয়ে চলাচল করতাম, এখন তাও পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। ফসলের জমি এখন ফসলসহ পানির নিচে।
ভাই ভাই মৎস্য হ্যাচারীর মালিক মো. নূর ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে আমার সব পুকুর তলিয়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগে আমার পুকুরের মাদার-ফাদার মাছ বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলে। এরপর কিছু মাদার-ফাদার মাছ নতুন করে কিনে আনি। এখন যেভাবে পানি বেড়েছে তাতে মনে হচ্ছে পুকুর একটাও বাঁচাতে পারবো না।
কোলা ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রোমান শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়নে অনেক রাস্তা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। কিছু রাস্তা পানির স্রোতে ভেঙে গিয়েছে। এতে দূর্ভোগে পরেছে ইউনিয়নের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বন্যার পানি অনেক বাড়ীতে চলে গিয়েছে। সেই বাড়ীর মানুষ গুলো অনেক দূর্ভোগ আছে। একে তো করোনা ভাইরাস তার উপর বন্যা। আমরা সরকার থেকে যখন যা পাচ্ছি সকল অসহায় মানুষের মাঝে তা বিতরণ করছি। বন্যার অবস্থা আরো খারাপ হলে আমাদের বিদ্যালয় গুলো আশ্রয়কেন্দ্র জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. জাহিদ হাসান বলেন, কোলা ইউনিয়নে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর মাঝে সুখবর হচ্ছে ভুট্টা সঠিক সময়ে উঠে গিয়েছে। ইউনিয়নে প্রায় ১শ ৫০ হেক্টরের মত ভুট্টা আবাদ হয়। ভুট্টা উঠার পর পরই পানি চলে আসে। করোনার কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ না হয় বা কৃষক যেনো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকে তার জন্য আমরা কিছু প্রণোদনা দিয়েছিলাম। আমন ধান চাষের জন্য আমরা ৪৫ জন ক্ষুদ্র কৃষককে ৫ কেজি করে আমন ধান বিতরণ করি। আমাদের কৃষি অধিদপ্তর থেকে দশটি প্রদর্শনী দেয়া হয়। সার, বীজ সহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করা হয়। কিন্তু দূরভাগজনক এই বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে আমাদের সকল ফসলই বর্তমানে পানির নিচে। এই ইউনিয়নে ১শ ৯৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছিল। সে গুলো বন্যার কারনে নষ্ট হয়ে যায়। এত কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
উপজেলা মৎস্য সহকারী কর্মকর্তা যুধিষ্টর রঞ্জন পাল জানান, কোলা ইউনিয়নে ছোট বড় অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। আমরা জেলায় জানিয়েছি। তারা সরকারি সহযোগীতা পাবে কিনা তা আমরা জানি না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা বলেন, রাস্তা-ঘাট অনেক ডুবেছে। কিছু ঘর-বাড়ী ও ডুবেছে। আমরা ও গুলোর তথ্য দিয়েছি জেলাতে। জেলা থেকে আমাদের বরাদ্ধ দিলে আমরা বিতরণ করবো।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি