কুড়িগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ৪২০ টি চর-দ্বীপচর এখন বন্যাকবলিত।গতকাল থেকে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করলেও, এখনো বন্যার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।
এখনো বেশির ভাগ এলাকায় হাঁটুপানি রয়েছে। এ কারণে পানিতে মাঠ-ঘাট, ফসলি জমি এমনকি চাষ করা ঘাসের জমিও ডুবে গেছে। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে কৃষকের গচ্ছিত রাখা খড়ও। বানভাসিরা রাস্তা, রেলওয়ে স্টেশন, উঁচু স্থান ও বাঁধে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। গোখাদ্যের সংকটে ক্রমেই গবাদিপশু দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে কোরবানির ঈদে গবাদিপশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক ও খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো জেলায় ২ হাজারের অধিক গবাদিপশুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক খামার এবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। পারিবারিকভাবে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। সারা জেলা বন্যায় আক্রান্ত প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখের মতো গবাদিপশু। এসব গবাদিপশু কোরবানির ঈদে বিক্রির কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের মোগলবাসা, যাত্রাপুর, পৌরবাজার, কাঠালবাড়ি, দুর্গাপুর ইত্যাদি জায়গায় গরুর হাট রয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ওই সব হাটে গত সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। ওই সব হাটে বিক্রির জন্য অনেক গরু উঠেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গরু কিনতে আসা ক্রেতাগন গরুর দাম অনেক কম বলেছে। গরুপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাম কমে গেছে বলেও জানান বিক্রেতারা। ভয়াবহ বন্যায় গরু বাঁচিয়ে রাখা এখন খামারিদের দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাঁধের একজন গরুর খামারি বলেন, বন্যায় মাঠের সব ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্গত এলাকায় মাঠ–ঘাট ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে তাঁর গরুগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। গরুর মাংস কমে যাওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বেশি দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। খামারিরা এবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো.মকবুল হোসেন বার্তা বাজার কে বলেন,,‘বন্যাদুর্গত এলাকায় আমাদের অনেক টিম এখনো কাজ করছে। কোথাও গবাদিপশুর মৃত্যু হয়নি। সরকারিভাবে আমরা এখন পর্যন্ত গো-খাদ্যের কোন বরাদ্দ পাই নি ।বরাদ্দ পেলে দ্রুত সেটা বন্টন করা হবে।”
মি.মকবুল হোসেন আরো জানান, সরকারি বরাদ্দের না থাকার কারণে জাতিসংঘের একটি সংস্থা থেকে জেলা সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নে ৯৩১ টি এবং চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ও চিলমারী ইউনিয়নে ৯৭৩ টি পরিবারের জন্য ৭৫ কেজি করে গো-খাদ্য বরাদ্দ পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকার কাজ চলছে, কাজ শেষ হলে সেগুলো বিতরণ করা হবে।
বার্তাবাজার/এমকে