নড়িয়ায় পদ্মায় গিলে খেলো এক তলা স্কুল ভবনসহ ৫০টি বাড়ি

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নে ৮১নং বসাকের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা ভবনসহ ৫০ টি বাড়ি ঘর পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলা বন্ধ করে দেওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে নড়িয়া চরআত্রার মানুষ।

বুধবার(২৯ জুলাই)সকালে এই ভবনটি পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নে এই পর্যন্ত ৫০ টি পরিবারের বাড়ি ঘর পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৪২ সালে বসাকের চর গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক আছেন চারজন। এর আগেও বিদ্যালয়টি আরও কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয়।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টি পদ্মায় বিলীন হয়। এরপর বসাকের চরের নতুন জায়গায় ৪০ শতাংশ জমির ওপর ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টি নতুন ঠিকানা পায়। ঘূর্ণিঝড়ে আধা পাকা ভবন বিধ্বস্ত হলে ২০১২ সালে একটি দ্বিতল ভবন ও ২০১৭ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, ‘স্কুল ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তবে, বিভিন্ন কারণে স্কুলটি সেখান থেকে সরানো হয়নি। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের জন্য ভবনটি ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও চরআত্রা ইউনিয়নের ৫০ টি পরিবারের বাড়ি ঘর পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ওই এলাকায় নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলেছি। কিন্তু, পদ্মার তীব্র স্রোতে কারনে সবকিছু ভেসে গেছে। ঈদের কারনে শ্রমিক কম। ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।

এ ছাড়া বর্তমানে বিদ্যালয়ের আরো একটি ভবন ও শতাধিক বাড়ি ঘর পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে আছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

কেএস/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর