জনতার তোপে পড়ে চাল কিনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিতরণ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ভিজিএফের স্লিপ থাকা সত্যেও চাল বঞ্চিতদের চাপে পড়ে বাজার থেকে চাল কিনে তাদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ১২২ জনকে স্লিপ দেয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু। শেষে চেয়ারম্যানের নিজের অর্থায়নে চাল কিনে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বঞ্চিত ১২২ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই অমরখানা ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু করা হয়। বরাদ্দ পাওয়া ৪৪ মেট্রিক টন চাল ৪ হাজার ৪০৩ জনের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছিল।

আগেই তালিকাভুক্তদের হাতে ভিজিএফের স্লিপ বিতরণ করে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। কিন্তু বিতরণের শেষ দিকে ১২২ জন স্লিপ থাকা সত্যেও চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের চাল বিতরণের আগেই চাল শেষ হয়ে যায়।

বঞ্চিতরা দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও চাল না পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এমনকি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানায় চাল বঞ্চিতরা। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন ঘটনাস্থলে যান।

অবস্থা বেগতিক দেখে অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অর্থায়নে বাজার থেকে চাল কিনে বঞ্চিত ১২২ জনকে দেন।

অমরখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু বলেন, আমি ইউপি সদস্যদের মোট ৪ হাজার ৪০৩ জনকে স্লিপ দিতে বলেছি। এর মধ্যে যেন ইউনিয়নের ৬১ টি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে অন্তর্ভূক্ত সেই নির্দেশনা দেই। কিন্তু তারা ৪ হাজার ৪০৩ জনকে স্লিপ দেয়ার পর আরও ১২২ জন ইমান ও মোয়াজ্জিনকে ভিজিএফের স্লিপ দিয়েছে। বিষয়টি আমার জানা ছিলো না।

তাই বিতরণের সময় অতিরিক্ত ওই ১২২ জনকে দেয়ার আগেই চাল ফুরিয়ে যায়। পরে আমি বাজার থেকে চাল কিনে তাদের মাঝে বিতরণ করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, অমরখানায় যে পরিমাণ ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তা স্লিপ প্রাপ্ত প্রত্যেকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কেউ বাদ যায় নি। তারপরও আমরা মাইকিং করেছি যদি স্লিপ প্রাপ্ত কেউ বাদ যায় চেয়ারম্যানের সাথে যেন যোগাযোগ করে। অতিরিক্ত তালিকা করলে সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।

তবে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ভুয়া স্লিপ তৈরি করে বিতরণের প্রমাণ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেএস/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর